নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী, শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংসার চালাতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই নিজেদের এই নীরব কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারছেন না। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ, মাংস, ডিম ও চিনি। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ার পর বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ বেড়েছে, যার ফলে এর দাম কিছুটা কমেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী ফিরোজ মাহমুদ জানান, আমদানি বাড়ার কারণেই কাঁচামরিচের দাম এখন ক্রেতাদের হাতের নাগালে এসেছে। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও তা পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহের ঘাটতি থাকায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম। এছাড়া বাজারে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু একসঙ্গে ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা গেছে।
তবে মাংস ও ডিমের বাজারে ক্রেতাদের জন্য কোনো সুখবর নেই। বাজারে প্রতি ডজন ডিম এখনো ১৫০ টাকা এবং চার পিস ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে ডিমের দাম এই উচ্চপর্যায়ে রয়েছে, যা আগে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল। মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য মাছ, মাংস ও ডিম কেনা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আবদুল্লাহপুর মাছের আড়তে প্রতি কেজি বড় রুই ৩৩০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতল ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ইলিশ আকারভেদে ৯০০ থেকে ২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে আটা, ময়দা ও চিনির বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ১৫-২০ দিন আগেও ৫৫ টাকা ছিল। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির বাজারেও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের আশঙ্কা, আগামীতে প্যাকেটজাত চিনির দাম আরও বাড়তে পারে।
ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেল এখনো আগের দামেই অর্থাৎ প্রতি লিটার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খোলা তেলের দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। খিলক্ষেত বাজারে আসা জেসমিন আরা বলেন, নির্দিষ্ট বেতন দিয়ে চড়া দামের এই বাজারে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মাস শেষে চলতে আমাদের খুব কষ্ট হয়, কিন্তু এই কষ্টের কথা কাউকে বলতেও পারি না। বসুন্ধরা বাজারে নাঈম নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে এলে নিজেকে অসহায় লাগে। সরকার পরিবর্তন হলেও দ্রব্যমূল্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে মধ্যবিত্তের ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হবে। রামপুরা বাজারে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা রাজীব অভিযোগ করেন, চিনি ও ডিমের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, সবজির দামও চড়া। বাজারে কোনো কার্যকর মনিটরিং নেই।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যথাযথ ও নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে বিভিন্ন বাজারে একই পণ্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হলেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ও কঠোর বাজার তদারকি প্রয়োজন।
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় অবস্থিত এসেনশিয়াল ড্রাগস লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার…
দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও বিক্ষোভের ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতাকে পাঁচ…
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব কেটি জ্যাকারিয়া তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভুলবশত ট্রাম্পকে…
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রাপ্তি ও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো পর্যালোচনার…
দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান…
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ নতুন বেশ কিছু বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ…
This website uses cookies.