
রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের আমতলা এলাকার একটি টিনের ঘরে আটটি পরিবার একটিমাত্র গ্যাস সংযোগের দুটি চুলা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করেন। গ্যাসের চাপ এতই কম যে, এক পরিবারের রান্না শেষ করতেই কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। শিরিন বেগম নামের এক গৃহিণী জানান, বেলা ১১টায় রান্না শুরু করেও দেড় ঘণ্টায় একটি পদ শেষ করা সম্ভব হয়নি। চুলায় সরাসরি ভাত রান্না করা যাচ্ছে না, আগে পানি গরম করে তারপর চাল দিতে হচ্ছে। মাছের তরকারি রান্নার পরও ভাত হতে বাড়তি আরও এক ঘণ্টা সময় লাগছে। রেশমা বেগম জানান, সকাল ৮টায় রান্না শুরু করে তাদের শেষ করতে বেলা ১১টা বেজে যাচ্ছে। কর্মজীবী নারীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন, তাদের ভোর ৪টা থেকে উঠে রান্নার কাজ শুরু করতে হয়।
গ্যাস সংকটের এই প্রভাব সিএনজি স্টেশনগুলোতেও প্রকট। মিরপুর সিরামিকস রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভারশন সেন্টারে গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ডিসপেনসার অপারেটর মোহাম্মদ আকাশ জানান, গত কয়েক দিনে যেখানে গ্যাসের চাপ ৮০ থেকে ৯০ ছিল, আজ তা সর্বোচ্চ ৭০ পাওয়া যাচ্ছে। চাপ কম হওয়ায় ৬০ কেজির সিলিন্ডারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকার গ্যাস ভরতে তিন থেকে চার মিনিট সময় লাগছে। প্রতিটি ডিসপেনসারিতে দুটি সংযোগ থাকলেও একসঙ্গে দুটি গাড়িতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না, কারণ চাপ আরও কমে যায়। তখন একটি গাড়িতে ৮০ থেকে ১০০ টাকার বেশি গ্যাস ঢোকে না। খোরশেদ আলম নামের এক প্রাইভেট কার চালক জানান, প্রায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট অপেক্ষা করে তিনি মাত্র ১৭৮ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছেন। তিনি জানান, গ্যাসের চাপ বেশি থাকলে এই টাকায় এসি চালিয়ে ৩০ কিলোমিটার গাড়ি চলত, আর এসি বন্ধ রাখলে ৩৮-৪০ কিলোমিটার চলত, কিন্তু এখন গ্যাসের সঙ্গে হাওয়া ঢুকে যাওয়ায় ৩০ কিলোমিটারও চলা কঠিন।
বাসচালকদের ভোগান্তি আরও বেশি। মিরপুর সুপার লিংকের বাসচালক মামুন মিয়া জানান, সাধারণত তার বাসে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার গ্যাস ঢোকে। কয়েক দিন আগেও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার গ্যাস ঢুকত, অথচ আজ মাত্র ২৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। এই সামান্য গ্যাসে মিরপুর থেকে আজিমপুর যাওয়া-আসা করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার গ্যাস বন্ধ করলে একেবারে বন্ধ করে দিক, এই যন্ত্রণা আর ভালো লাগে না। অল্প অল্প গ্যাস নিয়ে গাড়ি চালানো বা রোজগার করা অসম্ভব। মামুন মিয়া আজ সকাল ছয়টা থেকে ট্রিপ শুরু করে একবার মিরপুর থেকে আজিমপুর এবং আবার আজিমপুর থেকে মিরপুর এসেছেন।
এদিকে, গ্যাসের চাপের অভাবে মিরপুরের মিনারভা সিএনজি স্টেশন ও শাহজালাল সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। শাহজালাল সিএনজি স্টেশনের কর্মী রফিকুল ইসলাম জানান, রাত একটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত গ্যাস ছিল, এরপর থেকে আর গ্যাস নেই। আরিয়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যেখানে ৩৯টি প্রাইভেট কার ও ৪৩টি অটোরিকশা গ্যাসের অপেক্ষায় ছিল। সেনপাড়ার বাসিন্দা ফাহিমা আক্তার জানান, আগে দুপুরে রান্না শেষ করতে এক ঘণ্টা সময় লাগলেও এখন ৩০ শতাংশ গ্যাসও পাওয়া যায় না। দুই চুলা একসঙ্গে জ্বালানো যায় না, একটি বন্ধ রাখলে অন্যটিতে কিছুটা গ্যাস আসে। এ কারণে সকালের নাশতা শেষ করেই সকাল ১০টার দিকে দুপুর ও রাতের রান্না শুরু করতে হয়। গ্যাসের সংকটে তার পরিবারের সকালের খাবারের অভ্যাসও বদলে গেছে, এখন ছেলেও বাবার সঙ্গে পান্তা খাওয়া শুরু করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২