
গ্রাহকদের জন্য মোবাইলে কথা বলার খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বর্তমানে নির্ধারিত ভয়েস কলের সর্বনিম্ন ট্যারিফ বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ কমানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এ তথ্য জানানো হয়। শুনানিতে টেলিযোগাযোগ সেবার মান, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, কলড্রপ, ভয়েস ও ডাটার দাম, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, সিম নিবন্ধন এবং এনইআইআরসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাহকদের প্রশ্নের উত্তর দেন কর্মকর্তারা। জামালপুর থেকে অংশ নেওয়া রকীব রায়হান কলরেট কমানোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দাবি জানান। এর জবাবে বিটিআরসি জানায়, বর্তমানে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন রেট ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ রেট ২ টাকা। গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন রেট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিসুল আলম পারভেজ জানান, রোলআউটের বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি হাওর ও অন্যান্য দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে টেলিটক একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে মাস্কিং ছাড়া এসএমএস এবং বিদেশি ওটিপি পেতে বিলম্বের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিটিআরসি জানায়, ধাপে ধাপে সব বার্তাকে মাস্কিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত কারণে ওটিপি পেতে দেরি হতে পারে। ডাটা প্যাকেজের শর্ত গ্রাহকদের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় নেটওয়ার্ক সচল রাখার সক্ষমতা বাড়াতে একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টাওয়ারগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম এবং তা নিরাপদ বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়ে কমিশন জানায়, কলসেন্টার ১০০, ওয়েবসাইট এবং জিআরএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ জমা নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৯টি অভিযোগের মধ্যে ১১ হাজার ২৭৯টি অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৭০ শতাংশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সেবার মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে শিগগির ওয়েবসাইটে মাসভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হবে। স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর সংশোধিত ২০২৬ সালের ৮৭ ধারা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার গণশুনানির আয়োজন করা হবে।
এবারের শুনানিতে ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে ২ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধন করেছিলেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৭ জন বিভিন্ন পেশার মানুষ, ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী এবং ১৭২ জন নারী ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ জানান, ২০২৫ সালের গণশুনানিতে ১ হাজার ৭৫৬টি অভিযোগ জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ২২১টি বিষয় চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২