
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানজট নিরসন হওয়ার পরিবর্তে দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজের ধীরগতিই এই দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তির মূল কারণ বলে জানা গেছে। নতুন লেন খুলে দেওয়া হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় আট বছর আগে এই চার লেন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে নির্মাণকাজের ধীরগতির পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েক দফায় কাজ বন্ধ থাকায় গত দেড়-দুই বছর ধরে যানজট নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত বুধবার সিলেট-কুমিল্লা-চট্টগ্রামমুখী নতুন লেন খুলে দেওয়া হয়। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে একটি লেন দিয়েই উভয়মুখী যানবাহন চলাচল করায় সরাইল বিশ্বরোড মোড় একটি যানজটের ফাঁদে পরিণত হয়েছিল। নতুন লেন চালুর পর যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল ভোগান্তি কমবে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নতুন লেন চালুর দুই দিনের মাথায় গত শুক্রবার ছুটির দিনে প্রায় ১২ কিলোমিটার জুড়ে ভয়াবহ যানজট দেখা দেয়। বেড়তলা থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া মোড় হয়ে বাড়িউড়া পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বিশ্বরোড মোড়ের গোলচত্বর অতিক্রম করতেই অনেক যানবাহনকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু একটি লেন খুলে দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ, অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বরোড মোড়ে যান নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের অভাবই পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়টিতে যাত্রীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বা ফুটপাত। ফলে যানজটে আটকা পড়ে অনেক যাত্রী শেষ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হতে বাধ্য হচ্ছেন, যা নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হালিম জানান, নতুন লেন খুলে দেওয়ার পর যানজট অনেকটা কমবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে চালকদের নিয়ম না মানা এবং উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি ঘটেনি।
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪: ০৪আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪: ০৬
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২