জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, দেশে ধীরে ধীরে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট এলায়েন্স (ডিজেএ) আয়োজিত ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই সংকোচন রোধে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলনের সময় অনেক সাংবাদিক পেশার ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবিকতা ও দেশপ্রেম থেকে কাজ করেছেন, এমনকি আহতদের রিকশায় করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার মতো নজিরও স্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল মাধ্যমে সাংবাদিকদের সক্রিয়তা ও তাদের সরবরাহ করা তথ্য এবং ফুটেজ আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সহায়তা করেছে।
তবে তিনি সাংবাদিকদের মধ্যে বিপক্ষ শক্তির উপস্থিতির কথাও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা নতুন দল হিসেবে কিংবা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিডিয়ার কাছ থেকে সব সময় যে ধরনের ব্যবহার পাওয়ার কথা ছিল, তা পাইনি। কয়েকদিন আগেও হাসনাত আবদুল্লাহর একটি বক্তব্যের কারণে একটি মিডিয়া ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তাকে নিয়ে ২০ থেকে ৩০টি প্রতিবেদন করেছে। বিভিন্ন সময় ছাত্রনেতৃত্বের চরিত্রহনন এবং তাদের দুর্নাম করার চেষ্টা করা হয়েছে।” তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ছয়জন সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন এবং কয়েকশ সাংবাদিক আহত হয়েছেন, যাদের অনেকে এখনো চিকিৎসাধীন। তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন অনেক আহত সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানান।
গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, তার সাত মাসের দায়িত্ব পালনকালে পুরো দেশকে স্থিতিশীল করতে সব শক্তি ব্যয় করতে হয়েছে, ফলে অনেক কিছু করার সুযোগ থাকলেও সীমাবদ্ধতা ছিল। তিনি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। এছাড়া সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে সাংবাদিকদের ছাঁটাইয়ের বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করেছেন বলে জানান।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে গণমাধ্যমকে ভেতর থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন এবং সেখানে মালিকপক্ষ, সম্পাদক, করপোরেট স্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রভাবের মতো পরস্পরবিরোধী স্বার্থ কাজ করে। তিনি ছাত্রনেতৃত্বের চরিত্রহননের প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন এবং জানান যে, একটি মুক্ত পরিবেশ থাকলেও তা কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করাকে হঠকারিতা বলা উচিত নয়, বরং বিরোধী দলের কথা বলার সুযোগ থাকাটাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। তিনি ভবিষ্যতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উত্তর ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় চড়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করা প্রায় সব নারীই যাত্রাপথে ধর্ষণের…
রাজধানীর মিরপুর-১ রাড্ডা এলাকায় সংস্কার কাজের কারণে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার…
বঙ্গভবনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের পৃথক…
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ…
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিশেষ বই প্রদর্শনী ও বিক্রয়…
কুড়িগ্রামের দইখাওয়া সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে গুলি করে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে ফেলে যাওয়ার…
This website uses cookies.