
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফাঁস হওয়া ৪৮ সেকেন্ডের ওই অডিওতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করতে শোনা যায়। তবে এই অডিওটি ঠিক কখন রেকর্ড করা হয়েছিল এবং অপর প্রান্তে কে কথা বলছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো ধারণা করছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংগঠিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাঝামাঝি সময়ে এই কথোপকথনটি রেকর্ড করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে আশরাফুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য অমূল্য সম্পদ। তার কোনো বিকল্প নেই, সেটি বাংলাদেশের গাধা জনগণ বুঝতে পারছে না। তিনি অনেক উন্নয়ন করেছেন, দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন। এর পরও জনগণের শুকরিয়া নেই।’ এই বক্তব্য চসিকের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
আশরাফুল আমিনের বিরুদ্ধে চসিকে একক আধিপত্য বিস্তার, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। গত ১০ মাস ধরে চসিকে কোনো স্থায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি একচ্ছত্র প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চসিকের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ দুটি শীর্ষ পদ একসঙ্গে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে তিনি প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি করেছেন এবং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের দাপট বজায় রেখে চলেছেন।
চসিকে যোগদানের আগে আশরাফুল আমিন সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ‘এটুআই’ (a2i) প্রকল্পে স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে তার আদি বাড়ি হলেও সম্প্রতি তিনি নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) কর্মরত থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
ভাইরাল হওয়া অডিওটির বিষয়ে বক্তব্য জানতে চসিক সচিব আশরাফুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে অডিওটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে এ বিষয়ে তার লিখিত মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা (এসএমএস) পাঠান। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘এটি শুনলেই বোঝা যায়, বক্তব্য আমার না।’ এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৩৬আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৪২
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২