
শরীয়তপুরের জাজিরায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা যেন থামছেই না। একের পর এক বিস্ফোরণে স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বসতবাড়ির টয়লেট, সেপটিক ট্যাংক কিংবা রাজনৈতিক সংঘর্ষ—সবক্ষেত্রেই বিস্ফোরকের ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। একটি বিস্ফোরণের শব্দ থামতে না থামতেই আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে জাজিরা পৌরসভার জামাল মাদবরের কান্দি এলাকায় শাহ আলম বেপারির একটি ভবনের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিকট শব্দে ভবনের ছাদের নিরাপত্তা গাইডওয়াল ভেঙে যায় এবং ছাদে থাকা পানির ট্যাংকটি ফেটে ছিটকে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। এর মাত্র একদিন আগে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার লাউখোলা এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণে মান্নান সরদার নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রাণহানির মাত্র একদিন পরই ফের বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
জাজিরায় বোমা আতঙ্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। গত ২৯ জুলাই সকালে উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের কদম আলী মাদবর কান্দি গ্রামের জব্বার মাদবরের বাড়ির টয়লেটের ছাদে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে টয়লেটের ছাদ ধসে পড়ে এবং উপরের পানির ট্যাংকটি বিস্ফোরণের তীব্রতায় ছিটকে অন্য স্থানে পড়ে। এর ঠিক আগের দিন, ২৮ জুলাই বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারি কান্দি এলাকায় একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ওপর ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়, যাতে সেপটিক ট্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শুধু জুলাই মাসেই নয়, এর আগেও জাজিরায় বিস্ফোরকের ব্যবহার নিয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ জুন জাজিরা পৌরসভার কবিরাজকান্দি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনে পুলিশ তদন্তে নামে। পরে একটি পারিবারিক কবরস্থান থেকে বালতির মধ্যে রাখা ১২টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ককটেলগুলো ঘাস-লতাপাতার নিচে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে আড়াল করে রাখা হয়েছিল।
এরও আগে বিলাসপুর ইউনিয়নে পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে ১০ বছর বয়সি এক শিশুর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত ২৯ মে চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় জমিতে পড়ে থাকা ককটেল হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় এই বিস্ফোরণটি ঘটে। শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। স্থানীয়রা জানান, জাজিরার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২