
দেশের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান গ্যাস–সংকট নিরসনে সরকারের সীমিত সামর্থ্য ও বর্তমান কাঠামোগত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং ধৈর্য ধরা ছাড়া বর্তমানে আর কোনো বিকল্প নেই।
রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘নেভিগেটিং বাংলাদেশ এনার্জি ক্রাইসিস: ইমিডিয়েট প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড দ্য পাথ টু এ সাসটেইনেবল এনার্জি ফিউচার’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এইটুকুই বলতে চাই, উই আর ওয়ার্কিং...এই ক্রাইসিসের সময় আসলে এখন আমার কিছু করার নাই। কারণ, এখন আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারব না বা উইদাউট এফএসআরইউ, আমার যে গ্যাস আছে, সেটাও নামাতে পারব না।’
মন্ত্রী জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার কারণেই চলমান সংকটের সূত্রপাত। বর্তমানে বিদেশি প্রকৌশলীরা টার্মিনালটি মেরামতে কাজ করছেন। তবে মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে এবং কারিগরি সমন্বয়ের জন্য পুরো সিস্টেমটি টানা ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন বন্ধ রাখা লাগবে, যা সাময়িকভাবে গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘এখন শুধু আমাকে দিন গোনা ছাড়া আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছে এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু নাই।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ২০২৯ সালকে লক্ষ্য করে সরকার অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। ইতিমধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দেওয়া হয়েছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শিল্পে গ্যাস–সংকট কমাতে ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে গ্যাস সরবরাহ এবং মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি কনটেইনারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ‘গরিবের টেসলা’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার ফলে বিদ্যুতের পিক আওয়ার রাত ১২টায় গিয়ে ঠেকছে এবং চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাচ্ছে। তেল আমদানির বিষয়ে তিনি জানান, কোনো নির্দিষ্ট সংস্থাকে একচেটিয়া ব্যবসা দেওয়া হচ্ছে না, বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নীতি করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎসাহিত করতে সোলার ব্যাটারি ও ইনভার্টারের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করা এবং পাঁচ বছরের ট্যাক্স হলিডে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির মূল প্রবন্ধে বলেন, দেশের ৮৪ শতাংশ বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার সুপারিশ করেন। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ জানান, গ্যাস–সংকটে শিল্পকারখানায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে এবং ব্যবসায়ীরা ‘রেসকিউ প্যাকেজ’ দাবি করেছেন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন জ্বালানি খাতে ১০ বছর মেয়াদি সমন্বিত নীতির ওপর জোর দেন। এছাড়া বিপ্পার সভাপতি ডেভিড হাসনাত স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের তাগিদ দেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বছরের পর বছর তা জমিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরসহ অন্যান্য বক্তারা শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২