
বাগেরহাটের মোংলায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের মাটি কেটে ড্রেন তৈরির ঘটনার সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। মঙ্গলবার সকালে কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাঠের বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটা ও বড় বড় গর্তের অস্তিত্ব খুঁজে পান।
ঘটনাটি ঘটেছে মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন খেলার মাঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যালয় দুটি বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে গত শুক্র ও শনিবার রাতের আঁধারে মাঠের বিভিন্ন অংশ কেটে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন তৈরি করা হয়। এতে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কোনো অনুমতি ছাড়াই এই খননকাজ চালানো হয়েছে। বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল বাদশা এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রাতের আঁধারে যারা এই মাঠ ধ্বংস করার চেষ্টা করছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলেখা খানম জানান, সকালে বিদ্যালয়ে এসে তিনি মাঠ খনন করা অবস্থায় দেখতে পান। এ বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না এবং তার কাছ থেকে কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, মাটি কাটার অভিযোগে অভিযুক্ত লাভলী মজুমদার দাবি করেছেন, বৃষ্টির পানিতে তার ঘরবাড়ি ও গাছপালা তলিয়ে যাওয়ায় তিনি পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেন। এ জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে নিজের ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে পাইপ কিনে কাজ শুরু করেছিলেন।
তবে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্র নাথ মৃধা। তিনি বলেন, পানি সরানোর জন্য পাইপ নেওয়ার বিষয়ে কথা হলেও মাঠের ভেতর দিয়ে ড্রেন কাটার কোনো অনুমতি তিনি দেননি। কাজ শুরু হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেয়ে তিনি ম্যানেজিং কমিটিকে অবহিত করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন।
‘আমার দেশ’-এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটিতে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক মানিক চন্দ্র গাইন, বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলেখা খানম, সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. খান জাহান সরদার।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান জানান, সরেজমিনে পরিদর্শনে মাঠের বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘায়িত না হয়। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২