সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাস করতে না পারায় দেশে আবারও গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে আজ মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাত্র চার দিন আগে এলএনজি সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সোমবার থেকে তা পুনরায় কমতে শুরু করে, যা গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোকে চরম বিপাকে ফেলেছে।
পেট্রোবাংলার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রের জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে দৈনিক সরবরাহ ২৫ কোটি ঘনফুটেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। তবে সাগরের পরিস্থিতি উন্নত হলে বুধবার থেকে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ বিষয়ে বলেন, এলএনজি বহনকারী কার্গো জাহাজটি কাছাকাছিই অবস্থান করছে, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেটিকে টার্মিনালে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই এক অগ্নিকাণ্ডে এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গেলে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। এতে গৃহস্থালির রান্নার চুলা, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালটিতে দুটি বয়লার রয়েছে, যার প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। অগ্নিকাণ্ডে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্যটি অক্ষত ছিল। সেই অক্ষত বয়লারটি দিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এটি চালু করার আগে পরীক্ষা-পরীক্ষার জন্য বর্তমানে চালু থাকা বয়লারটি বন্ধ করতে হবে। এতে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে অন্তত ১২ ঘণ্টার জন্য গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ছুটির দিনে গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় পেট্রোবাংলা ওই সময়েই এই কাজটি করতে চায়। এ লক্ষ্যে এক্সিলারেট এনার্জিকে একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে, যা জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। ফলে চলতি সপ্তাহে এক্সিলারেট থেকে সরবরাহ আর বাড়ছে না, যেখানে বর্তমানে তারা দৈনিক গড়ে ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে ১০৫ কোটি ঘনফুট আসে এলএনজি থেকে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ থাকাকালীন সামিটের টার্মিনাল টানা চার দিন সক্ষমতার চেয়ে বেশি, অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ করেছিল। পরবর্তীতে তারা দিনে ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বজায় রাখে। এতে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। পরে এক্সিলারেটের একটি বয়লার আংশিক চালু হলে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়েছিল। কিন্তু সোমবার এলএনজি নিয়ে আসা নতুন জাহাজ থেকে গ্যাস খালাস করতে না পারায় সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ ২৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এর ফলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে এবং আজ মঙ্গলবার তা আরও হ্রাস পেতে পারে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মিয়ারশাইমার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ কার্যকারিতা প্রমাণিত…
সন্তান হারানো দম্পতিকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মৃত সন্তানের প্রতিরূপ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে নির্মিত হিরোকাজু…
শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন…
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত জাতীয় শিক্ষার মানদণ্ড…
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়ানো খবরকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির…
বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিসা।…
This website uses cookies.