
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় ৯৬টি মাইন উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার প্রবাসী নুরুজ্জামান কালুর মালিকানাধীন ৭ শতাংশ জমিতে শ্রমিকেরা মাটি কাটার সময় ছয়টি ধাতব বস্তু দেখতে পান। বস্তুগুলোর গায়ে ‘পি ডি এফ জি এল ৬৩, লট ৩৭, মাইন ১৯৬৭’ লেখা ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা জোরদার করে। এরপর এগুলো উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাথে যোগাযোগ করা হয়।
যশোর সেনানিবাস থেকে আসা সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলটি আজ বেলা দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাসদস্যরা প্রথমে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে পুরো এলাকা পরীক্ষা করেন এবং পরে খনন শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খনন চালিয়ে একে একে ৯৬টি মাইন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন এবং ৭৯টি মানববিধ্বংসী অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন রয়েছে। উদ্ধার শেষে মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য সেনাবাহিনী পাশের মধুগাড়ি মাঠে নিয়ে গেছে, যেখানে বর্তমানে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছে।
গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানিয়েছেন, পুরো এলাকা পুলিশ ও বিজিবির নজরদারিতে ছিল। উদ্ধার হওয়া মাইনগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কৌশলগত কারণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পুঁতে রেখে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, ১৯৭১ সালে বেতবাড়িয়া গ্রামের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বেংগাড়ি মাঠে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প ছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়েছিল। এলাকা ছেড়ে পালানোর সময় পাকিস্তানি বাহিনী মাইনগুলো ফেলে রেখে যেতে পারে।
স্থানীয় প্রবীণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, আড়াই কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের বেংগাড়ি মাঠে ১৯৭১ সালের ১১-১২ নভেম্বর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। বীর প্রতীক ওয়ালিউল হোসেনসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সদস্য সেখানে শহীদ হন। মুক্তিবাহিনীর প্রবল আক্রমণে দিশাহারা হয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বেতবাড়িয়া গ্রাম হয়ে কুষ্টিয়া সদরে পালানোর সময় এই মাইনগুলো পুঁতে রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন ৬৪ কেজি বা তার বেশি ওজনের চাপে বিস্ফোরিত হয়, আর অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন আরও ভারী চাপে সক্রিয় হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২