
সন্তানের পূর্ণ অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনসহ আরও তিন মা। শনিবার রাজধানীর শুক্রাবাদের দৃকপাঠ ভবনে ‘শিশুদের অভিভাবকত্ব সম্প্রসারণ প্রস্তাব (সিজিইপি)’ আয়োজিত এক সংলাপে তারা নিজেদের সংগ্রামের কথা জানান। এই সংলাপ আয়োজনে সহায়তা করেছে নাগরিক কোয়ালিশন। কথা বলতে গিয়ে এই মায়েরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি, যা উপস্থিত অন্যদেরও আবেগাপ্লুত করে।
অভিনেত্রী বাঁধন জানান, ২০১৪ সালে বিচ্ছেদের পর সাবেক স্বামী যখন মেয়েকে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তার সই নিতে চান, তখনই তিনি আইনের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারেন। আইনজীবী তাকে জানান, আইনে বাবা সন্তানের অভিভাবক হওয়ায় তিনি সই করতে বাধ্য। ২০১৭ সালে মামলা করার পর ২০২৪ সালে তিনি মেয়ের পূর্ণ অভিভাবকত্ব পান। হাইকোর্ট সেই সময় তাঁকে পূর্ণ অভিভাবকত্বের অধিকার দেওয়ার পাশাপাশি নাবালক সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ধারণে নীতিমালা প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাঁধন বর্তমানে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের দায়িত্ব পালনে বাবা-মায়ের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংগীতশিল্পী ওয়ারদা আশরাফ জানান, ২০১৮ সালে বিচ্ছেদের সময় তাকে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে মামলা করার পর ২০২২ সাল থেকে তিনি সন্তানদের কাছে পাওয়ার অনুমতি পান। দীর্ঘ সময় বাবার কাছে থাকায় সন্তানদের মনে মায়ের প্রতি ভুল ধারণা তৈরি করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাকে নিয়ে আমার ছেলের ছোটবেলার কোনো স্মৃতি নেই। এর পেছনে শুধু আইনি ব্যবস্থা নয়, সামাজিক ব্যবস্থাও দায়ী।
শিক্ষিকা আতকিয়া আসিমা জানান, সন্তানের বয়স যখন মাত্র ছয় মাস, তখন শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের ও সন্তানের খরচ বহনের চাপ দেওয়া হলে তিনি স্বামীকে তালাক দেন। আদালতের আদেশে সন্তানকে বাবার কাছে পাঠানোর সময় মায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হতো, যা সন্তানকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। সভায় তিনি তার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের লেখা ‘দ্য স্ট্রাগল অব এ সিঙ্গেল মাদার’ শিরোনামের একটি বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
অধিকারকর্মী কানিজ ফাতেমা মিথিলা তার সাত বছরের আইনি লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, উন্নত বিশ্বে মায়েরা সহায়তা পেলেও বাংলাদেশে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিকূলতার মুখেও তাদের একা লড়তে হয়।
সংলাপের সঞ্চালক ও সিজিইপির আহ্বায়ক আইনজীবী দিলরুবা শরমিন বলেন, বিদ্যমান ১৮৯০ সালের গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস আইন অনুযায়ী মা হেফাজতদার হতে পারলেও আইনগত অভিভাবক মূলত বাবাই। জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নারী ও শিশুর বিষয়ে নজর দিতে জাতীয় সংসদে ককাস গঠনের পরামর্শ দেন। একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির ‘ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড’ বা অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
সংসদ সদস্য আইনজীবী ফাহিমা নাসরীন অভিন্ন পারিবারিক আইনের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেন। ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন মা পুনরায় বিয়ে করলে অভিভাবকত্ব হারানোসহ বৈষম্যমূলক বিধান পরিবর্তনের সুপারিশ করেন। এ ছাড়া সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গীতিয়ারা নাসরীন, সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ, মো. মঞ্জুরুল হোসেন, তাসলিমা আখতার, মনির হায়দার, শহিদুল আলম, তৃষিয়া নাশতারান, রেহনুমা আহমেদ, সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন ও আয়েশা আক্তার বক্তব্য দেন।
২০১৮ সালে স্বামীর সঙ্গে যখন বিচ্ছেদ হয়, তখন মেয়ের বয়স ৫ বছর আর ছেলের বয়স আড়াই বছর।
তাঁর সন্তানের বয়স এখন ১১ বছর।.আতকিয়া আসিমা বলেন, ‘আদালতে নিয়ে বাবাকে সন্তান দেখাতে হবে এমন আদেশের পর আমি সন্তানকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২