
পিরোজপুরের নেছারাবাদে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ পেয়ারা বাগানকেন্দ্রিক ভাসমান বাজারটি বর্তমানে দেশের ইকো-ট্যুরিজমের একটি সম্ভাবনাময় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী বাগানগুলোতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। বরিশাল বিভাগের নেছারাবাদের সীমানাসংলগ্ন বানারিপাড়া এবং ঝালকাঠির সদর উপজেলার কুড়িয়ানা, আটঘর, গণপতিকাঠি, মাদ্রা, আতা, জামুয়া, জৌসার, মুসলিমপাড়া, শশীদ, আন্দাকুল, আদাবাড়ী, আদমকাঠি, জিন্দকাঠি, কাঠুরাকাঠি, ধলহার, ডুমুরিয়া, ভিমরুলী, শতদশকাঠি ও বাউকাঠিসহ প্রায় ২৪টি গ্রামে চার হাজার পেয়ারাচাষি রয়েছেন। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, তিনটি উপজেলার ২৩টি গ্রামে ৮৭৮ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ হাজার ২২০টি বাগান রয়েছে, যা ঘিরে প্রায় ১৬ হাজার শ্রমজীবী মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন।
তবে এই বিপুল সম্ভাবনার বিপরীতে চাষিরা প্রতি বছর লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। চাষিদের মতে, বাগান পরিচর্যার খরচ বেশি হওয়ায় তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। হিমাগারের অভাবে প্রতি বছর কোটি টাকার পেয়ারা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভিমরুলীর ভাসমান বাজারে পাইকারি দামে প্রতি মণ পেয়ারা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়, যা থেকে চাষিরা খুব সামান্যই লাভ পাচ্ছেন। আড়তদাররাও জানিয়েছেন, ভাসমান বাজার থেকে ৫০০ টাকায় কিনে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি করায় তাদেরও লাভের পরিমাণ সীমিত।
একসময় নেছারাবাদের পেয়ারা বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। ১৯৮৭ সাল থেকে শুরু করে কলম্বিয়া, পর্তুগাল, নেপাল, পাকিস্তান, চীন, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, বার্মা, ভুটান, আফগানিস্তান, আরব আমিরাত, মালদ্বীপ, বুলগেরিয়া, ইরাক, ইরান ও ইংল্যান্ডসহ ১৭টি দেশে এই পেয়ারা রপ্তানি হতো, যা থেকে বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত। তবে হিমাগারের অভাব, কৃষি অধিদপ্তরের অসহযোগিতা এবং কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে ২০২০ সালে রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে চাষিরা বিদেশে পুনরায় পেয়ারা রপ্তানির সুযোগ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের দাবি জানিয়েছেন। নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাফুজুর রহমান জানিয়েছেন, পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে হিমাগার নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২