৩৬ জুলাই: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের এক প্রতীকী দিন
- আপডেট সময় : ০৫:১৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আমূল বদলে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পর এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম গণঅভ্যুত্থান হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। এই আন্দোলনের তীব্রতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং সেদিনই তিনি ও শেখ রেহানা দেশত্যাগ করেন। এই দিনটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘৩৬ জুলাই’ নামটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ক্যালেন্ডারের হিসাবে ৫ আগস্ট ছিল আগস্ট মাসের একটি দিন। তবে আন্দোলনকারীদের কাছে এটি ছিল ‘৩৬ জুলাই’। এর পেছনে তাদের একটি বিশেষ প্রতীকী ব্যাখ্যা ছিল। আন্দোলনকারীদের মতে, জুলাই মাসজুড়ে চলা আন্দোলন আগস্টে গড়ালেও তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ‘জুলাই’ শেষ হয়নি। এই বিশ্বাস থেকেই তারা আগস্টের দিনগুলোকেও প্রতীকীভাবে জুলাই হিসেবে গণনা করতে শুরু করেন। এভাবে একটি অসমাপ্ত জুলাইয়ের প্রতীকী সমাপ্তি হিসেবে ৫ আগস্ট দিনটি তাদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে এই গণসংগ্রামের সূচনা হয়। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন ধীরে ধীরে বেগবান হতে থাকে। ১৬ জুলাই এই আন্দোলন আরও উত্তাল হয়ে ওঠে এবং ওইদিন ছয়জন প্রাণ হারান। এরপর বিক্ষোভকারীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। যদিও ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট কোটা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের নির্দেশ দেয়, তবুও আন্দোলন থামেনি। বরং জুলাইয়ের শেষভাগ থেকে আগস্টের শুরুতে এটি কোটা সংস্কারের দাবি ছাড়িয়ে একদফা দাবিতে রূপ নেয়।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্র-জনতা বিজয়ের উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। ক্যালেন্ডারের পাতায় জুলাই মাস ৩১ দিনে শেষ হলেও, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিধানে ‘৩৬ জুলাই’ একটি নতুন প্রতীকী দিন হিসেবে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। ৫ আগস্টের এই জয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে সর্বস্তরে উদযাপিত হয়।
























