
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগের ঠিক আগমুহূর্তে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্ট সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হেলিকপ্টার থেকে নামার পর মাত্র কয়েক মিনিটের কথোপকথনে তিনি গণভবনের পরিস্থিতি ও রাজধানীর সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন।
সামরিক সূত্রগুলোর বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরে গণভবনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানাকে বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ভারতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহন বিমান আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর হেলিকপ্টার থেকে নেমে শেখ হাসিনা সেখানে কর্তব্যরত কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। এ সময় তিনি রাজধানীর সার্বিক অবস্থা এবং আন্দোলনের শেষ পরিস্থিতি জানতে চান। কর্মকর্তারা তাকে গণভবনের দিকে ধাবমান বিশাল জনস্রোত এবং অভ্যুত্থানের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা দেন। এর মাধ্যমে দেশের মাটিতে অবস্থানকালেই তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতির চূড়ান্ত রূপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছিলেন বলে সূত্রগুলো জানায়。
নিরাপত্তা সূত্রের তথ্যমতে, কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে অপেক্ষমাণ ওই সামরিক পরিবহন বিমানটির ইঞ্জিন আগে থেকেই চালু রাখা হয়েছিল। সেখানে শেখ হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। তবে অন্য একটি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, তারিক আহমেদ সিদ্দিকী নিজে ওই বিমানে ছিলেন না; তিনি পরবর্তীতে ভিন্ন উপায়ে দেশত্যাগ করেন।
ভারতের উদ্দেশে রওনা দেওয়া ওই বিশেষ সামরিক বিমানের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট হিসেবে ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। বিমানটি ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। নিরাপত্তার স্বার্থে উড্ডয়নের সময় বিমানটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং সাধারণ রুটের বদলে একটি বিকল্প রুট ব্যবহার করা হয়। ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশের পর বিমানটি কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।
এদিকে, গণভবন থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি এবং সেখান থেকে আকাশপথে ভারতে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো উদ্ধার অভিযানটি সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর তৎকালীন কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মান্নাফি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২