
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তথ্য জেনে ফেলায় পরিকল্পিতভাবে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামকে হত্যা এবং তার স্ত্রী ও দুই শিশুকে গুম করে নির্যাতনের অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এ মামলার অন্যতম প্রধান আসামি, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের পোস্টিংয়ের তালিকায় মেজর জাহিদের নাম থাকলেও তিনি সেখানে যোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন না। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সময় তার কোর্সমেট ক্যাপ্টেন মো. মাজহারুল হায়দার তাকে ফোনে জানান যে, বিডিআর পোশাক পরিহিত কিছু অপরিচিত হিন্দিভাষী ব্যক্তি সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে। বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত মেজর জাহিদ এই তথ্য তৎকালীন সময়েই ক্যান্টনমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের টার্গেটে পরিণত হন।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীতে অযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নানা বিশৃঙ্খলা মেনে নিতে না পেরে ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে সপরিবারে উত্তরায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন মেজর জাহিদ। এরপর থেকেই গোয়েন্দারা তার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি রূপনগরে বাসা বদল করেন। কিন্তু ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে রূপনগর থানা পুলিশ তাকে হাত বেঁধে বাসার নিচে নামিয়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
স্বামীকে হত্যার আগে ও পরে তার পরিবারকেও চরম নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার ও তার দুই শিশুকন্যাকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। জাহিদের অবস্থান জানতে চাইলে পুলিশ তাদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালায়। পরে তাদের ডিবির ‘আয়নাঘরে’ দীর্ঘ ৪ মাস ৭ দিন গুম করে রাখা হয়।
গত বছরের ১০ আগস্ট জেবুন্নাহার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, তৎকালীন ডিবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, মিরপুরের তৎকালীন ডিসি মাসুদ আহমেদ, রূপনগরের তৎকালীন ওসি শাহীদ আলম এবং তৎকালীন ডিবি ডিসি কৃষ্ণ পদ রায়সহ রূপনগর থানার অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জেবুন্নাহার জানান, স্বামীকে জঙ্গি তকমা দিয়ে হত্যার পর তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন না হলে হয়তো তাকে জেলেই ধুঁকে ধুঁকে মরতে হতো। এদিকে জাহিদের ভাই জাহিদুল হক মজুমদার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ পড়ে থাকলেও পরিবারকে তা দেওয়া হয়নি। আড়াই বছর পর আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
জেবুন্নাহার ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমার স্বামী শহীদ মেজর জাহিদুল ইসলামকে হত্যার পর আমার ওপর নেমে আসে অমানবিক, নিষ্ঠুর ও জঘন্যতম নির্যাতন। আসামিদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার স্বামীকে জঙ্গি তকমা দিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন না হলে হয়তো আমাকে ধুঁকে ধুঁকে জেলখানায় মরতে হতো অথবা বড় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি করা হতো।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২