বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) মামলা পরিচালনার ধরন ও বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লন্ডনভিত্তিক এই সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ঘাটতি আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সংস্থাটির আশঙ্কা, এর ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করা হতে পারে এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সংঘটিত নির্যাতনের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক মামলায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যায্যবিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন। নতুন সরকারের উচিত নিশ্চিত করা যে, দুর্বল তদন্ত ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনো সুযোগ যেন না থাকে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা ট্রাইব্যুনালে চলমান এক ডজনেরও বেশি মামলার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের কারণ খুঁজে পেয়েছে। এইচআরডব্লিউর দাবি, একাধিক মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাদের নেয়া সাক্ষ্যবিবৃতিতে একই ধরনের অনুচ্ছেদ হুবহু বা প্রায় একইভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাক্ষ্যপ্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এছাড়া বর্তমান আইন অনুযায়ী প্রসিকিউটররা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারেন এবং আটক ব্যক্তিদের লিখিত কারণ ছাড়াই মাসের পর মাস আটকে রাখা যায়। পাশাপাশি আলাদা আদালতে অন্তর্বর্তী আপিলের কোনো সুযোগ নেই।
অভিযুক্তপক্ষের সুরক্ষা নিয়েও সংস্থাটি প্রশ্ন তুলেছে। এইচআরডব্লিউর দাবি, অভিযুক্তরা তাদের প্রমাণ উপস্থাপনের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে বিচার শুরু হতে পারে, ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। এছাড়া অনুপস্থিতিতে বিচার হলেও আসামির নিজের আইনজীবী বেছে নেয়ার সুযোগসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় না এবং আইনজীবীদের সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগও সীমিত।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনালে ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন প্রসিকিউটররা। ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজনীতিক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিচার চলছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের ঘটনায় ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ গুরুতর আহত হন। এছাড়া শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগসহ অন্যান্য মামলারও বিচার চলছে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল ছয়টি বিচার সম্পন্ন করেছে, যেখানে ৬২ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪২ জনের বিচার অনুপস্থিতিতে হয়েছে, যার তালিকায় শেখ হাসিনাও রয়েছেন। এছাড়া ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এইচআরডব্লিউ বলেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করলেও, তা আন্তর্জাতিক আদালতের সমমানের বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রেক্ষিতে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ…
চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন…
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার মোট ২১৯টি…
নানা বিতর্ক ও ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে আবারও ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের…
ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, দেশটির সাতটি প্রদেশে মার্কিন ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান…
জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চার…
This website uses cookies.