

দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে সরকার উচ্চপর্যায়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। সরকার–সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করে আগস্ট মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এর আগে সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে নির্বাচনের কথা শোনা গেলেও, আইন অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন না থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা সম্ভব বলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন।
গত ২৪ জুলাই শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন গতকাল সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন। সিইসি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই তারিখ নির্ধারণ করা হবে। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। দলটির নীতিনির্ধারণী সূত্র অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় দলের দায়িত্ব পালন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং রাজনৈতিক সংকটকালে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার সক্ষমতা তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ অনেকে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত মনে করছেন। তবে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, দলীয় নাকি বাইরের কাউকে প্রার্থী করা হবে, তা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারে বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তন আসবে। সেক্ষেত্রে তাঁকে মন্ত্রী ও দলের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের মতামত এবং স্থায়ী কমিটির আলোচনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান শনিবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হবে না। ১৫ জুলাই সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে বলে আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিল
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২