ঝালকাঠি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যের মধ্যকার বিরোধের কারণে জেলার চার উপজেলার ৪১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকার বরাদ্দ থাকলেও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি ‘সাধারণ বরাদ্দ’ উপখাতে ঝালকাঠি জেলা পরিষদের অনুকূলে সাত কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর বিপরীতে গত মে মাসে ঝালকাঠি সদরের ১৭৫টি, নলছিটি উপজেলার ১৭৩টি, রাজাপুর উপজেলার ৪৩টি এবং কাঠালিয়া উপজেলার ২৫টিসহ মোট ৪১৭টি প্রকল্পের তালিকা প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রকল্পগুলোর মধ্যে মসজিদ-মাদরাসার উন্নয়ন, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ক্রয় এবং ছোট রাস্তা ও নলকূপ স্থাপনের মতো কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে তালিকা পাঠানোর পরপরই ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো গত ২৮ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে আপত্তির কথা জানান। তাঁদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা, পরামর্শ বা সমন্বয় করা হয়নি। সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের ভাষ্যমতে, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা জেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের পরামর্শ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা পরিষদ প্রশাসক শাহাদাৎ হোসেনের দাবি, প্রকল্পের তালিকায় সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোও রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় রাজনীতির বিভাজনের জেরে এই বিরোধের সূত্রপাত। শাহাদাৎ হোসেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তার দূরত্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনী এলাকার প্রস্তাবনাগুলো বাদ দিয়ে প্রশাসক নিজের ইচ্ছামতো তালিকা তৈরি করেছেন। বিপরীতে শাহাদাৎ হোসেন জানান, নলছিটি পৌরসভা কেন্দ্রিক কিছু প্রকল্প জেলা পরিষদের আওতাভুক্ত না হওয়ায় সেগুলো নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত ৭ জুলাই জেলা পরিষদকে একটি চিঠি দেয়। এতে মন্ত্রণালয় জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ধারা ৩০ এবং এডিপি পরিপত্র-২০২২ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের পরামর্শ গ্রহণের নির্দেশ দেয়। জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরিয়ার জানিয়েছেন, প্রশাসক ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমঝোতা না হলে প্রকল্পের অর্থ ফেরত যাবে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। গত ৭ জুলাইয়ের চিঠির পর থেকে এখন পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কোনো সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জেলা পরিষদ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত ৭ জুলাই মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে দুই সংসদ সদস্যের ‘পরামর্শ গ্রহণের’ কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি বলে জেলা পরিষদ সূত্র নিশ্চিত করেছে।.যা আছে প্রকল্পেজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থ বছরে এডিপি ‘সাধারণ বরাদ্দ’ উপখাতে ঝালকাঠি জেলা পরিষদের অনুকূলে মোট সাত কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
চীনের লাইভস্ট্রিম শপিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সুপারস্টার লি…
কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ…
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ঐতিহাসিক এই সফরে…
পাকিস্তানের লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ প্রথমবারের মতো আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন। তিনি আফগানিস্তানের…
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা সাত দিন ধরে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের…
মানবজাতির জন্য ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার এক অনুপম আদর্শ হিসেবে মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনকে তুলে…
This website uses cookies.