বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এর একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টেড উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে, যা বিভিন্ন দেশের ব্যাংক এবং সম্পদে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
রোববার সকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল Hannan (কাজী আবদুল হান্নান), মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।
বক্তব্যে বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতির একটি চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, পিরোজপুরের একটি项目中 শুধু অর্থ পাচারই হয়নি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সেখানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি। এক ইঞ্চি রাস্তাও নির্মাণ করা হয়নি এবং এক কেজি রড কিংবা একশ টাকার সিমেন্টও ব্যবহার করা হয়নি। অথচ কাগজে-কলমে পুরো কাজ দেখিয়ে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিগত সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হলেও দেশের মানুষ তার কোনো সুফল পায়নি। তখন প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করে তা বিদেশে পাচার করার ফলে দেশের উন্নয়ন যেমন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি সরকারের ওপর জনগণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনের শাসন ও একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তরুণ আইনজীবীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের মেধা, সততা ও পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে। অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পে এক কেজি…
দেশের চা শিল্পের উন্নয়নে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার সচিবালয়ে…
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদে গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ডিএমপি এবং ঢাকা…
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের…
৩৮৫ কোটি টাকার শিশু নিবাস প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের…
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী…
This website uses cookies.