যখন সময় ডেস্ক রিপোর্ট:
নেত্রকোনা জেলা পৌর শহরের দক্ষিণ সাতপাই এলাকায় ১ অসহায় বিধবা নারী তাহেরা আক্তার ওপর বর্বরোচিত হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ১ যুবক আলম ও তার স্ত্রী সোমা আক্তারের বিরুদ্ধে।
গত ২২ জুন সকালে প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলার ঘটনা ঘটে, বর্তমানে আশঙ্কা জনক অবস্থায় ওই নারী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন,
আহত মোছাঃ তাহেরা আক্তার (৫৫) দক্ষিণ সাতপাই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মকবুল হোসেনের স্ত্রী।
অভিযুক্তরা হলেন:- একই এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোঃ আলম (৩৫), তার স্ত্রী সোমা আক্তার(৩১) আলমের মা সাজেদা আক্তার (৫৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন।
ঘটনার সূত্রপাত বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ির পাশের রাস্তার জায়গা নিয়ে ভুক্তভোগী তাহেরা আক্তারের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আলমের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল, এরই জের ধরে গত ২২ জুন সকাল ৯:৩০ ঘটিকায় আলম ও তার স্ত্রী সোমা আক্তার পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তাহেরা আক্তারের বোনের ছেলে, অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ ইলিয়াসের মনোহারি দোকানের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
এ সময় বিধবা তাহেরা আক্তার গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে আলম ও সোমা আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় পরে এসে আলমের মা ও অজ্ঞাতনামা আরো ২-৩ জন তাহেরা আক্তারকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও একাধিক লাথি মারে ও কাপড় চোপড় ছিঁড়ে শ্নীলতাহানি করে ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে রাস্তার ওপর ফেলে রাখে।
ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তারা ভুক্তভোগীকে পরবর্তী সময়ে সুযোগ বুঝে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় বলেও জানা গিয়েছে।
ভুক্তভোগীর অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় স্থানীয়রা আহত তাহেরা আক্তারকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক ভাবে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন, সেখানে ২২ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত টানা ৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও তার শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি না দেখে হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল কনসালটেন্ট ডাঃ নাজমুল সাকিব উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
অপরাধ ঢাকতে হামলাকারীর পাল্টা অভিযোগ করেন, এদিকে, ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং নিজের অপরাধ আড়াল করতে হামলাকারী আলম উল্টো নেত্রকোনা মডেল থানায় ১টি মিথ্যা পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে, ওই অভিযোগে ঘটনার সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টাকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ ইলিয়াসকে অহেতুক বিবাদী করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ইলিয়াস ঘটনার সময় নিরপেক্ষ থেকে মারামারি থামাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভূমিকা রেখেছিলেন, অভিযুক্তের অপরাধের ইতিহাস ইতিপূর্বেও সে একইভাবে তাহেরা আক্তারের বড় মেয়ে বৃষ্টিকে মারধর করেছিল, যা পরবর্তীতে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হয়।
এছাড়া আলমের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের মামলা রয়েছে এবং ১টি নারী কেলেঙ্কারির মামলায় সে ৫ মাস জেল খেটেছে বলে জানা গিয়েছে।
আইনগত ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের দাবি, এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী তাহেরা আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় ১টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ২৭/৬/২৬ইং তারিখে মামলা দায়ের করা হয়েছে যার ১নং আসামী মোঃ আলম (৩৫) পিতা মৃত জয়নাল আবেদীন ২নং আসামী মোছাঃ সোমা আক্তার (৩১) স্বামী মোঃ আলম ৩নং আসামী মোছাঃ সাজেদা খাতুন (৫৮) স্বামী মৃত জয়নাল আবেদীন সর্বসাং দক্ষিণ সাতপাই থানা ও জেলা নেত্রকোনা।
অসহায় বিধবা তাহেরা আক্তার ও তার পরিবার সাংবাদিকদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন তথা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন সরকার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে পরবর্তী পদক্ষেপ ও আসামি গ্ৰেফতার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক হোসেন মঞ্জিল, ৬/১, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : হোসেন মঞ্জিল, ৬/১, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, বাংলাদেশ। সাব-হেড অফিস: টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২