ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে পুলিশি তাণ্ডব, আটক হাজারো আন্দোলনকারী ওয়ানডে দলে প্রথমবার ডাক পেলেন রহস্য স্পিনার আলিস দিল্লিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে কেজরিওয়ালসহ বহু নেতা আটক কেন্দুয়ায় এক রাতে কৃষকের ৪ গরু চুরি, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা শিল্পকলায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় আটক এক হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হলেন ক্যাটি জাকারিয়া কেশবপুরে রোগযন্ত্রণা সইতে না পেরে দুই বৃদ্ধের আত্মহত্যা দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের পথ করবে: বিশ্লেষকরা নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত নিয়ে আসিফ মাহমুদের ক্ষোভ ও চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ

শৈত্যপ্রবাহ হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জলঢাকার জনজীবন

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, বুরো চিপ রংপুর বিভাগ:
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ২২৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান,
বুরো চিপ রংপুর বিভাগ:

এই তীব্র শীতে একটি কম্বল, ও গরম কাপড়—শুধু ত্রাণ নয়, এটি একটি মানুষের জীবনের উষ্ণতা।

নীলফামারীর জলঢাকার শীতে কাঁপতে থাকা অসহায় মানুষগুলোর নীরব কান্না শুনতে এখনই সমাজের ও দেশের বিত্তবান ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
হিমালয় কাছে হওয়ায় ঠান্ডা হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত নীলফামারীর জলঢাকার জনজীবন। দিনের আলো ফোটার আগেই হিমেল বাতাসে কাঁপতে শুরু করে অসহায় দরিদ্র সহ সকল পেশার মানুষগুলো।

এখানে রাত বাড়ার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষ গুলো গরম কাপড়ের অভাবে শীতের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে জলঢাকা পৌর বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, শীত নিবারণের কোনো উপকরণ ছাড়াই সড়কের পাশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন দিনমজুর, ভিক্ষুক সহ অসহায় মানুষেরা।
ষাটোর্ধ্ব ভ্যান চালক জাহাঙ্গীর আলম জড়সড় হয়ে বলেন,শীতে শরীর কাঁপে, রাতে ঘুমাতে পারি না ঠান্ডায়। গায়ে দেওয়ার মতো একটা গরম কাপড় থাকলেও বাঁচতাম। তার কণ্ঠে জমে থাকা কষ্ট যেন নীরবে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় সমাজের দিকে।

শুধু শহর নয়, উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর অবস্থা আরো করুণ। এদিকে অনেক দারিদ্র্য পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। শীতের ভয়ে শিশুরা স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে, আর বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিসহ নানা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে শীত জনিত রোগীর সংখ্যা।

স্থানীয়রা জানান, কিছু ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সীমিত পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অনেক অসহায় মানুষ এখনো কোনো সহায়তা পাননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা এখনো কিছু পাননি।

এদিকে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সহ শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র বিতরণ করার আহ্বান জানান এলাকাবাসী।

অন্য দিকে শীতে জুবুথুবু হয়ে পরা এ এলাকার মানুষ তাদের সামর্থ্যনুযায়ী গরম কাপড় কিনতে ভীর করছেন ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকান সহ বিভিন্ন মার্কেটে।আর এই সুযোগে দামও চাচ্ছেন বেশী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

শৈত্যপ্রবাহ হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জলঢাকার জনজীবন

আপডেট সময় : ১০:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান,
বুরো চিপ রংপুর বিভাগ:

এই তীব্র শীতে একটি কম্বল, ও গরম কাপড়—শুধু ত্রাণ নয়, এটি একটি মানুষের জীবনের উষ্ণতা।

নীলফামারীর জলঢাকার শীতে কাঁপতে থাকা অসহায় মানুষগুলোর নীরব কান্না শুনতে এখনই সমাজের ও দেশের বিত্তবান ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
হিমালয় কাছে হওয়ায় ঠান্ডা হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত নীলফামারীর জলঢাকার জনজীবন। দিনের আলো ফোটার আগেই হিমেল বাতাসে কাঁপতে শুরু করে অসহায় দরিদ্র সহ সকল পেশার মানুষগুলো।

এখানে রাত বাড়ার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষ গুলো গরম কাপড়ের অভাবে শীতের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে জলঢাকা পৌর বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, শীত নিবারণের কোনো উপকরণ ছাড়াই সড়কের পাশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন দিনমজুর, ভিক্ষুক সহ অসহায় মানুষেরা।
ষাটোর্ধ্ব ভ্যান চালক জাহাঙ্গীর আলম জড়সড় হয়ে বলেন,শীতে শরীর কাঁপে, রাতে ঘুমাতে পারি না ঠান্ডায়। গায়ে দেওয়ার মতো একটা গরম কাপড় থাকলেও বাঁচতাম। তার কণ্ঠে জমে থাকা কষ্ট যেন নীরবে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় সমাজের দিকে।

শুধু শহর নয়, উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর অবস্থা আরো করুণ। এদিকে অনেক দারিদ্র্য পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। শীতের ভয়ে শিশুরা স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে, আর বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিসহ নানা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে শীত জনিত রোগীর সংখ্যা।

স্থানীয়রা জানান, কিছু ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সীমিত পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অনেক অসহায় মানুষ এখনো কোনো সহায়তা পাননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা এখনো কিছু পাননি।

এদিকে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সহ শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র বিতরণ করার আহ্বান জানান এলাকাবাসী।

অন্য দিকে শীতে জুবুথুবু হয়ে পরা এ এলাকার মানুষ তাদের সামর্থ্যনুযায়ী গরম কাপড় কিনতে ভীর করছেন ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকান সহ বিভিন্ন মার্কেটে।আর এই সুযোগে দামও চাচ্ছেন বেশী।