ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড রায় ঘোষণা দোকান উচ্ছেদ নিয়ে ২ গোষ্ঠীর রণক্ষেত্র, নারী সহ আহত ২০ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা ক্ষেত্রপালা বিদ্যুতের লাইনকে কেন্দ্র করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ড্রাইভারদের অনিয়ম, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা নোয়াখালীতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর আহত ১০ পরশুরামে মাদক মামলার আসামি ফাতেমা গ্রেফতার কুড়িগ্রামে পিকআপ ও মোটরসাইকেল মুখামুখি সংঘর্ষে পিতা ও পুত্র নিহত গোপালগঞ্জ ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ১ শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় বাস এর সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত-২ ভিক্ষুককে কুপিয়ে ১৬০ টাকা ছিনতাই, কিশোর গ্যাং লিডার আটক

শৈত্যপ্রবাহ হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জলঢাকার জনজীবন

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, বুরো চিপ রংপুর বিভাগ:
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান,
বুরো চিপ রংপুর বিভাগ:

এই তীব্র শীতে একটি কম্বল, ও গরম কাপড়—শুধু ত্রাণ নয়, এটি একটি মানুষের জীবনের উষ্ণতা।

নীলফামারীর জলঢাকার শীতে কাঁপতে থাকা অসহায় মানুষগুলোর নীরব কান্না শুনতে এখনই সমাজের ও দেশের বিত্তবান ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
হিমালয় কাছে হওয়ায় ঠান্ডা হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত নীলফামারীর জলঢাকার জনজীবন। দিনের আলো ফোটার আগেই হিমেল বাতাসে কাঁপতে শুরু করে অসহায় দরিদ্র সহ সকল পেশার মানুষগুলো।

এখানে রাত বাড়ার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষ গুলো গরম কাপড়ের অভাবে শীতের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে জলঢাকা পৌর বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, শীত নিবারণের কোনো উপকরণ ছাড়াই সড়কের পাশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন দিনমজুর, ভিক্ষুক সহ অসহায় মানুষেরা।
ষাটোর্ধ্ব ভ্যান চালক জাহাঙ্গীর আলম জড়সড় হয়ে বলেন,শীতে শরীর কাঁপে, রাতে ঘুমাতে পারি না ঠান্ডায়। গায়ে দেওয়ার মতো একটা গরম কাপড় থাকলেও বাঁচতাম। তার কণ্ঠে জমে থাকা কষ্ট যেন নীরবে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় সমাজের দিকে।

শুধু শহর নয়, উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর অবস্থা আরো করুণ। এদিকে অনেক দারিদ্র্য পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। শীতের ভয়ে শিশুরা স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে, আর বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিসহ নানা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে শীত জনিত রোগীর সংখ্যা।

স্থানীয়রা জানান, কিছু ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সীমিত পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অনেক অসহায় মানুষ এখনো কোনো সহায়তা পাননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা এখনো কিছু পাননি।

এদিকে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সহ শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র বিতরণ করার আহ্বান জানান এলাকাবাসী।

অন্য দিকে শীতে জুবুথুবু হয়ে পরা এ এলাকার মানুষ তাদের সামর্থ্যনুযায়ী গরম কাপড় কিনতে ভীর করছেন ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকান সহ বিভিন্ন মার্কেটে।আর এই সুযোগে দামও চাচ্ছেন বেশী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

শৈত্যপ্রবাহ হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জলঢাকার জনজীবন

আপডেট সময় : ১০:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
print news

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান,
বুরো চিপ রংপুর বিভাগ:

এই তীব্র শীতে একটি কম্বল, ও গরম কাপড়—শুধু ত্রাণ নয়, এটি একটি মানুষের জীবনের উষ্ণতা।

নীলফামারীর জলঢাকার শীতে কাঁপতে থাকা অসহায় মানুষগুলোর নীরব কান্না শুনতে এখনই সমাজের ও দেশের বিত্তবান ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
হিমালয় কাছে হওয়ায় ঠান্ডা হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত নীলফামারীর জলঢাকার জনজীবন। দিনের আলো ফোটার আগেই হিমেল বাতাসে কাঁপতে শুরু করে অসহায় দরিদ্র সহ সকল পেশার মানুষগুলো।

এখানে রাত বাড়ার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষ গুলো গরম কাপড়ের অভাবে শীতের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে জলঢাকা পৌর বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, শীত নিবারণের কোনো উপকরণ ছাড়াই সড়কের পাশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন দিনমজুর, ভিক্ষুক সহ অসহায় মানুষেরা।
ষাটোর্ধ্ব ভ্যান চালক জাহাঙ্গীর আলম জড়সড় হয়ে বলেন,শীতে শরীর কাঁপে, রাতে ঘুমাতে পারি না ঠান্ডায়। গায়ে দেওয়ার মতো একটা গরম কাপড় থাকলেও বাঁচতাম। তার কণ্ঠে জমে থাকা কষ্ট যেন নীরবে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় সমাজের দিকে।

শুধু শহর নয়, উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর অবস্থা আরো করুণ। এদিকে অনেক দারিদ্র্য পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। শীতের ভয়ে শিশুরা স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে, আর বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিসহ নানা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে শীত জনিত রোগীর সংখ্যা।

স্থানীয়রা জানান, কিছু ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সীমিত পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অনেক অসহায় মানুষ এখনো কোনো সহায়তা পাননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা এখনো কিছু পাননি।

এদিকে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সহ শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র বিতরণ করার আহ্বান জানান এলাকাবাসী।

অন্য দিকে শীতে জুবুথুবু হয়ে পরা এ এলাকার মানুষ তাদের সামর্থ্যনুযায়ী গরম কাপড় কিনতে ভীর করছেন ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকান সহ বিভিন্ন মার্কেটে।আর এই সুযোগে দামও চাচ্ছেন বেশী।