
সিলেটের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি ও পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে এবার একযোগে মাঠে নেমেছে তিন সংস্থা—সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক), সিলেট ওয়াসা বোর্ড এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। পূর্বে যে কাজ এককভাবে সিটি করপোরেশন করত, এখন তা এই তিন সংস্থার প্রধানেরা আলাদা আলাদা দায়িত্ব নিয়ে সম্পন্ন করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই তিন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিলেটের তিন বিএনপি নেতাকে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পান জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বর্ধিত ১৫টি সহ মোট ৪২টি ওয়ার্ডের নতুন মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ শুরু করেছেন। কাইয়ুম চৌধুরী প্রশাসক হওয়ার পর সিলেটে আসেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সিলেটে সুরমা নদীর তীর ও নগর উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে অনেক কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সাবেক মেয়র ও বর্তমান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন কাইয়ুম চৌধুরী। এর ফলে দীর্ঘ আড়াই যুগ পর এবারের বর্ষার মৌসুমে নগরে কোনো জলাবদ্ধতা হয়নি। নাগরিক সেবা আরও সহজ করতে পুরো সিটি করপোরেশনকে ৫টি জোনে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এদিকে, ১০ লক্ষাধিক জনসংখ্যার মেগাসিটি সিলেটে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে মাঠে নামছে সিলেট ওয়াসা। বিগত সরকারের আমলে ওয়াসা বোর্ড গঠন করা হলেও এর কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে অর্ধেকের বেশি নগরে এখনো বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো যায়নি, বিশেষ করে দক্ষিণ অংশে পানি সরবরাহে চরম হিমশিম খাচ্ছে লাইন, জনবল ও অর্থ সংকটে থাকা সিটি করপোরেশন। গত আগস্টের শুরুতে ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছেন। বর্তমানে ওয়াসার একটি অস্থায়ী কার্যালয় খোঁজা হচ্ছে। কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে জানিয়ে মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, “মানুষের জন্য রাজনীতি। সুতরাং মানুষের সুবিধার জন্য কাজ করতে পারাটা সৌভাগ্যের।” তিনি দ্রুততম সময়ে নাগরিক ভোগান্তি লাঘবে কাজ করতে চান।
অন্যদিকে, সিলেটের পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। জুনের মাঝামাঝি সময়ে এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান নগর বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ৫ বারের সিটি কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ইতিমধ্যে নগরের ধোপাদীঘিরপাড়ে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করেছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভবন নির্মাণের অনুমোদনসহ দাপ্তরিক কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। ইতিমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রকৌশলীদের তালিকাভুক্তির জন্য আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন কয়েস লোদী। তিনি জানান, সিলেটকে একটি পরিকল্পিত উন্নয়ন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই তার প্রথম চ্যালেঞ্জ। শহরের কাজ শেষ করে পর্যায়ক্রমে গ্রামীণ এলাকাতেও এই উন্নয়নের পরিধি বিস্তার করতে চান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২