Header Premium (728×90)

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, জেগে উঠছে ধ্বংসের চিহ্ন

টানা অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পানি চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বসতঘর ধসে পড়েছে, সড়ক ভেঙে গেছে এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও সবজিক্ষেত তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। এছাড়া মাছের ঘের ও প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারদিকে এখন শুধু ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন আর ঘরহারা মানুষের আহাজারি ও দীর্ঘশ্বাস।

বাঁশখালী উপজেলায় এখনো হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম বিপর্যস্ত জীবন পার করছেন। অনেক জায়গায় পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় পানিবন্দি মানুষগুলো খাদ্য সংকটে ভুগছেন, যদিও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্য সামগ্রী বিতরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাহারছড়া এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ সড়ক ভেঙে বা পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাঈফ আনোয়ার জানান, পানি কমলেও বসবাসের মতো পরিবেশ নেই, অনেকেই সব হারিয়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। গন্ডামারা ইউনিয়নের বাসিন্দা শফকত হোসাইন চাটগামী জানিয়েছেন, গন্ডামারা ও ছনুয়াসহ বেশ কিছু এলাকায় মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে না পেরে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া স্থানীয় প্রবাসী আব্দুল্লাহর অভিযোগ, মাছের ঘেরের জন্য খালের স্লুইচ গেইট বন্ধ রাখায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানান, এখনো প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি এবং প্রাথমিক হিসাবে চার হাজারের বেশি কাঁচা ও মাটির ঘর ধসে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরিতে প্রশাসনের একাধিক টিম কাজ করছে। অন্যদিকে, সাতকানিয়া উপজেলায় সোমবার থেকে পানি নামতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ঘরে ফিরেও স্বস্তি নেই; অধিকাংশ ঘর কাদা ও আবর্জনায় পূর্ণ এবং আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, রোববার পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ১ হাজার ৫০০ মানুষের মধ্যে সোমবার ১ হাজার ২০০ জন বাড়ি ফিরে গেছেন। সাতকানিয়ার ইউএনও খন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতির আশা করছেন তিনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলার ১২২টি ইউনিয়ন ও এলাকা দুর্যোগের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ধস ও বন্যায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৮২১ জন মানুষ অবস্থান করছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত দুর্গতদের মধ্যে ৬৮৪ টন চাল ও ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যেখানে চাহিদা ছিল ৬২২ টন চাল ও ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

গুরুদাসপুরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি ২৫০

নাটোরের গুরুদাসপুরে নন্দকুজা নদীতে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের…

3 minutes ago

নর্দার্ন টেরিটোরিকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বাংলাদেশ এইচপি

অস্ট্রেলিয়ার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে নর্দার্ন টেরিটোরি স্ট্রাইকের বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ এইচপি।…

7 minutes ago

সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা প্রকাশে পেঙ্গুইনের অনীহা ও নতুন সম্ভাবনা

কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আসন্ন স্মৃতিকথা 'বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ' নিয়ে ভারতের অন্যতম বড়…

10 minutes ago

সরকার ফ্যাসিজমের দিকে এগোচ্ছে, জুলাই সনদ মানছে না: গোলাম পরওয়ার

সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না এবং ফ্যাসিজমের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য…

17 minutes ago

গোবিপ্রবিতে দুই দিনব্যাপী ইন্টারডিসিপ্লিনারি সামিট শুরু

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি সামিট ২০২৬’। সম্মেলনে ৪০টির…

21 minutes ago

‘রাস্তায় খুন’ গান পোস্টের দুই ঘণ্টা পরই গুলিতে নিহত গায়ক অঙ্কিত

ইনস্টাগ্রামে ‘রাস্তায় হত্যা করো’ কথার একটি গান পোস্ট করার মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় উত্তর প্রদেশে…

29 minutes ago

This website uses cookies.