
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক, উপ-সড়ক, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে এবং ১০ উপজেলার অন্তত ৪০টি ইউনিয়নের পাঁচ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন ১৪ হাজার ৬১ জন মানুষ। দুর্গতদের সহায়তায় এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান জানিয়েছেন, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
বন্যা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে শুক্রবার সকালে চকরিয়ায় নৌকাডুবির ঘটনায় হাসনাতু জান্নাত (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকায় ডুবুরি দল না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দলের সহায়তায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, চকরিয়ার শতাধিক গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও লোকালয়ে পানি এখনো বেশি।
চকরিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন যেমন কাকরা, সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। স্থানীয় বাসিন্দা জমির উদ্দিন ও আব্দুল আজিজ জানান, রান্নার জায়গা ও মাটির চুলা তলিয়ে যাওয়ায় শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং গবাদিপশু নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জমান জানান, তার ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
একইভাবে রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাওয়ারখোপ, মিঠাছড়ি ও ঈদগড়সহ ১১টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ চলছে। এছাড়া উখিয়া, টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকাও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এমএ মান্নান জানিয়েছেন, দুর্গতদের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে এবং প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় দুর্গত মানুষ দ্রুত পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, রান্না করা খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২