স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।
রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ২০ শিক্ষার্থীকে রক্ষা করা সাহসী শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরী (৪৬) অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন।
(২১ জুলাই) সোমবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আরও একজন শিক্ষার্থী আফনান (১৪) মৃত্যুবরণ করেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার মুহূর্তে মেহেরীন ম্যাডাম দ্রুততার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি নিজে তখন আগুনে আটকা পড়ে যান। শরীরের অনেকাংশ দগ্ধ হয়।
মাইলস্টোন কলেজের ১ জন শিক্ষার্থী জানায়, “আমরা সবাই দৌড়াচ্ছিলাম। ম্যাডাম আমাদের ধাক্কা দিয়ে বাইরে পাঠাচ্ছিলেন। শেষ মুহূর্তে তাকেও যেতে বলেছিলাম, কিন্তু উনি বললেন— 'তোমরা আগে যাও'।
মেহেরীন চৌধুরী ছিলেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি এলাকার মেয়ে। তিনি স্থানীয় বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ্যাডহক কমিটির সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি তার পারিবারিক পরিচয়ও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য— তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি।
উদ্ধার হওয়া এক শিক্ষার্থীর আত্মীয় বলেন, “আমার ভাগ্নিকে (ছোঁয়া) এক ম্যাডাম আগুনের ভেতর থেকে বের করে দিয়েছেন। না হলে আজ তাকেও হয়তো পেতাম না।”
এই অমানবিক দুর্ঘটনার মধ্যে মেহেরীন চৌধুরীর সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ যেন এক আলোকবর্তিকা। তার এই ত্যাগ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২