রংপুর টাউনহলের কর্মচারীদের বেতন বন্ধ: ৪ জনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক
স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
রংপুর টাউন হল ১৮৯৬ সালে ঐতিহাসিক রংপুর নাট্য সমাজ দ্বারা একটি থিয়েটার হিসেবে নির্মিত হয়েছিল, এটি বাংলাদেশে তার ধরণের প্রাচীনতম। যা ১৯৭১ সালে রংপুরের প্রতিরোধী বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের এবং নিরীহ জনতার বিরুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে সংস্কার করে নাটক, সাহিত্য অনুষ্ঠান, আলোচনা ও সেমিনারের জন্য ভাড়ায় প্রদান করা হয়।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নামমাত্র বেতনে চাকরি করেন ৫ জন কর্মচারী। সেই নামমাত্র বেতনও গত ৫ মাস ধরে পাচ্ছেন না তারা। রংপুর টাউনহলের নিজস্ব ফান্ড না থাকায় কর্তৃপক্ষ বেতন দিতে পারছেন না। বেতন বন্ধ থাকায় চরম অর্থকষ্টে দিন পার করছেন তারা। এই ৫ কর্মচারীর মধ্যে ৪ জনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, রোজায় ভালোভাবে একবেলা খাবারও জুটছে না তাদের। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঋণ করে রমজানে খেয়ে-পরে বাঁচার চেষ্টা করছেন।
পরবর্তীতে সংস্কার করে নাটক, সাহিত্য অনুষ্ঠান, আলোচনা ও সেমিনারের জন্য ভাড়ায় প্রদান করা হয়। তার ভাড়া প্রতি ৩ ঘণ্টায় সেমিনার ও আলোচনার জন্য ৬ হাজার টাকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ৪ হাজার টাকা, নাটকের জন্য ২ হাজার টাকা নেয়া হয়।
স্বল্প টাকায় ভাড়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকেই এখন ভাড়া নিতে চান না। কারণ, হলভাড়ার আবেদন করে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিন লাগে আবেদন মঞ্জুর করতে। অনেক সময় অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময় চলে আসলেও ভাড়ার অনুমতি মেলে না। এসব কারণে টাউনহলের আয় কমে গেছে, যার ফলে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে নিয়মিত বেতন, ঈদে বোনাস ও বৈশাখী ভাতা পেতেন কর্মচারীরা। গত কয়েক বছর ধরে অনিয়মিতভাবে বেতন পেলেও বোনাস পাচ্ছেন না তারা।
কর্মরত কর্মচারী সূত্রে জানা যায়, টাউনহলের তত্বাবধায়কসহ ৫ জন কর্মচারী কাজ করছেন। তত্বাবধায়ক খোরশেদ আলম, যিনি জেলা প্রশাসনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। মূলত ইলেকট্রিশিয়ান ও মাইক অপারেটর পদে আছেন আহসান হাবীব বকুল, অফিস সহায়ক আজহার আলী বুলু, নৈশ প্রহরী আব্দুল জব্বার এবং পরিচ্ছন্নকর্মী স্বরসতি রানী। তাদের বেতন যথাক্রমে তত্বাবধায়ক ৮ হাজার টাকা, ইলেকট্রিশিয়ান ও মাইক অপারেটর ৪ হাজার টাকা, অফিস সহায়ক ৩ হাজার টাকা, নৈশ প্রহরী ২ হাজার ৭০০ টাকা এবং পরিচ্ছন্নকর্মী ২ হাজার টাকা। টাউনহল ভাড়ার আয় থেকে তাদের বেতন দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৫ মাসের বেতন পাননি কর্মচারীরা। টাউনহলের নিজস্ব ফান্ডে টাকা না থাকায় তাদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তত্বাবধায়ক।
টাউনহলের তত্বাবধায়ক খোরশেদ আলম জানান, টাউনহলের তারা নিয়মিত স্টাফ হলেও হলের আয় থেকে তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী তারা চাকরি করেন। কয়েক মাস থেকে আয় কমে যাওয়ায় তাদের বেতন প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে যেহেতু সামনে ঈদ, এজন্য জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। অন্য একটি ফান্ড থেকে প্রতিজনকে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। ঈদের পর ভাড়া যাতে বাড়ে, সে উদ্যোগ নেয়া হবে।
কর্মচারীরা বলেন, দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে সামান্য টাকায় চাকরি করি। সেই বেতন দিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টকর। সেখানে আবার ৫ মাস ধরে বেতন বন্ধ হয়ে আছে। আগে টাউনহল ভাড়ার টাকা দিয়ে নিয়মিত বেতন পাওয়া যেত, কিন্তু এখন টাউনহল ভাড়া হয় না। যার কারণে বেতন বন্ধ হয়েছে।
ফখরুল আলম সাজু রাজধানী ঢাকা শনিআখড়া এলাকায় লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় ১ নবজাতকের…
🤲🤲 জাহান্নামের অগ্নিশিখা ১ দিন আসবে, ঐ দিনটা কোন দিন হবে আপনাদের জানা আছে?…
মোঃ পলাশ সালমান, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জ জেলা মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধমুক্ত সমাজ…
স্টাফ রিপোর্টার রংপুর। রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের দিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার…
ফখরুল আলম সাজু দিনাজপুর জেলা বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নে ২ মাদক ব্যবসায়ী কে ৯৪ পিস…
জান্নাতুল ফাহিমা তানহা, নিজস্ব প্রতিনিধি: নোয়াখালী জেলা সেনবাগে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আরাফাত ফায়েম হত্যা…
This website uses cookies.