
ইস্টার্ন ব্যাংকের (ইবিএল) চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এই নোটিশটি প্রেরণ করেন। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ৮ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে শওকত আলী চৌধুরীকে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাকে ব্যাংক খাতের আলোচিত এস আলম ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পাচার করা সম্পদের তদন্তের সময় যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শওকত আলী চৌধুরীর নামে যুক্তরাজ্যে রক্ষিত ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সন্ধান পায়। সেই সময় তিনি অর্থটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মাশরেক ব্যাংক ও এমিরেটস এনবিডিতে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন।
আইনজীবী এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ জানান, যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ এই সন্দেহজনক লেনদেনটি সাময়িকভাবে আটকে রেখে বিএফআইইউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছিল। তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে ফ্রিজিং আদেশ বা আইনি সহায়তার অনুরোধ না পেলে লেনদেনটি আটকে রাখা সম্ভব হবে না। নোটিশদাতার অভিযোগ, বিএফআইইউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ২৫ মিলিয়ন ডলার অবাধে দুবাইয়ে স্থানান্তরিত হয় এবং রাষ্ট্র অর্থটি উদ্ধারের সুযোগ হারায়।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি জানতে পেরে শওকত আলী চৌধুরী ২০২৫-২৬ করবর্ষে ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ দেখিয়ে ওই সম্পদ বৈধ করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। তবে নোটিশদাতার দাবি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী বিদেশে পাচারকৃত অপ্রদর্শিত সম্পদ কেবল কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ নেই; এটি একটি স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ। এ ছাড়া বিএফআইইউর নিজস্ব অনুসন্ধানে শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের ২৮টি ব্যাংকের ১৮৭টি হিসাবে প্রায় ৮ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং শেল কোম্পানির মাধ্যমে সম্পদ গঠনের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, যার ভিত্তিতে ৩০ জুন ও ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে তাদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছিল।
শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও কোনো এক অজ্ঞাত সমঝোতায় তদন্ত থমকে গেছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে। নোটিশদাতা অবিলম্বে ২৫ মিলিয়ন ডলার-সংক্রান্ত সব গোয়েন্দা তথ্য ও নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সিআইডির কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এমন গুরুতর অভিযোগ থাকা অবস্থায় ইবিএল চেয়ারম্যানের স্বপদে বহাল থাকার যোগ্যতা বা ফিট অ্যান্ড প্রপার মর্যাদা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়ে অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এই নোটিশে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২