
ইসলাম ধর্মে দাড়ি রাখাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হিসেবে গণ্য করা হয়, যা একজন মুসলিমের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। আধুনিক সমাজে কেউ কেউ এটিকে ঐচ্ছিক মনে করলেও, পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুসারে দাড়ি রাখার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবশ্যকীয়।
দাড়ি রাখা কেবল সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নতই নয়, বরং এটি তাঁর পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও একটি স্বীকৃত রীতি ছিল। পবিত্র কোরআনে নবী হারুনের (আ.) দাড়ি রাখার উল্লেখ রয়েছে, যখন তিনি তাঁর ভাই নবী মুসাকে (আ.) উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘হে আমার সহোদর, আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরো না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ৯৪)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, দাড়ি নবীদের একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য ছিল।
দাড়ি রাখার ব্যাপারে পবিত্র হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। নবীজি (সা.) নিজে দাড়ি রাখতেন এবং তাঁর উম্মতকে দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মোচ কাটো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও (লম্বা করো), আর অগ্নিপূজকদের বিপরীত আচরণ করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬০)। এই নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলামি শরিয়তে দাড়ি রাখা একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও রীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দাড়ি ইসলামের শিআর বা পরিচয়চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। যেহেতু এটি সকল নবীর পবিত্র রীতি ছিল, তাই একে ‘সুন্নত’ বলা হয়। তবে এটি সাধারণ ঐচ্ছিক সুন্নতের মতো নয়, বরং ‘সুন্নাতে ওয়াজিবা’ হিসেবে গণ্য, যা সুন্নাতে মুআক্কাদা অপেক্ষাও অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং যা পরিত্যাগ করলে পাপ হতে পারে। ইসলামি ফিকহশাস্ত্র অনুযায়ী, দাড়ি রাখার সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো এক মুষ্টি। এর কম দাড়ি কাটা সকল ইমামের ঐকমত্যে নিষিদ্ধ।
সুতরাং, দাড়ি রাখা ইসলামি শরিয়তে একটি স্বীকৃত সুন্নত এবং মুসলিম পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে এবং নবীজির সান্নিধ্যের আশা করতে পারে।
(আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি, ফাইজুল বারি শারহু বুখারি, ৬/৯৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০৫).দাড়ি ইসলামি শরিয়তে একটি স্বীকৃত সুন্নত ও মুসলিম পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে জান্নাতে আমার সঙ্গে থাকবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৬৭৮).ঘর থেকে বের হওয়ার সুন্নাহ পদ্ধতি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২