
ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে (PHP) এক গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় ত্রুটিটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাজ্যে সরকারি ৩২টি সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে এবং আরও চারটি সেবা আংশিক অকার্যকর রয়েছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের সরকারও তাদের বহু ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ রেখে ত্রুটি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম যেমন উইকিপিডিয়া ও ওয়ার্ডপ্রেসসহ বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইট পিএইচপির ওপর নির্ভরশীল। নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটেই এই প্রোগ্রামিং ভাষাটি ব্যবহার করা হয়। সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যাপক অ্যালান উডওয়ার্ড জানান, নতুন এই ত্রুটির কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় তিন কোটি ওয়েবসাইট সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা আক্রান্ত ওয়েব সার্ভারের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে পারে। এর মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য চুরি, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে অনধিকার প্রবেশ কিংবা ভবিষ্যতে পুনরায় হামলার জন্য গোপন ব্যাকডোর তৈরি করার সুযোগ থেকে যায়। ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ প্রিন্স জানান, নিরাপত্তাত্রুটিটি প্রকাশ্যে আসার আগের ১০ ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজারবার এটি কাজে লাগিয়ে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। পরবর্তীতে সেই চেষ্টা কয়েক লাখ থেকে ধাপে ধাপে লাখ লাখ প্রচেষ্টায় পৌঁছে যায়।
পিএইচপি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২০০৪ সালে প্রকাশিত পঞ্চম সংস্করণ (ভি৫) থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন সংস্করণে এই নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে সমর্থিত ৮.২ এবং এর পরের সংস্করণগুলোর জন্য দ্রুততম সময়ে সিকিউরিটি প্যাচ বা নিরাপত্তা সংশোধনী জারি করা হবে। ফাউন্ডেশনের দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়, সিস্টেম হালনাগাদ করা ছাড়া আপাতত সম্পূর্ণ নিরাপদ কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সরকারি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানে তারা কাজ করছে। তবে বড় ধরনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের স্বার্থে সেবাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে, যার অর্থ এগুলো হ্যাক হয়েছে এমনটি নয়। এছাড়া আগামী সপ্তাহের জাতীয় বাজেট সংক্রান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোনো বিঘ্ন ঘটার ইঙ্গিত মেলেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ডিজিটাল ব্যবস্থার এই দুর্বলতা বিভিন্ন দেশের সরকার ও ব্যবসা খাতের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২