
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় পদ হারিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন ব্যক্তির বরাতে তথ্যটি প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। কেটির দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও না আসলেও ট্রাম্প নিজে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে তিনি কেটিকে এই পদে থাকার বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বলেছেন।
সাংবাদিকদের সামনে কথা বলার সময় ডনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় থাকলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতাম।’ প্রেস সেক্রেটারিকে দেওয়া নিজের পরামর্শের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘কেটি, আপনার কি এই কাজটা দরকার? আমার মনে হয় না আপনার এটা দরকার।’ তবে প্রেসিডেন্ট জানান, কেটি চাইলে অন্য কোনো দায়িত্বে তার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, যা হয়তো তার জন্য ‘আরও স্বস্তিদায়ক’ হবে। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চেউং দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান যে কেটিকে একটি নতুন দায়িত্বে স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং সে সম্পর্কে পরবর্তীতে ঘোষণা দেওয়া হবে।
গত সোমবার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথম ও শেষবারের মতো হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন কেটি জাকারিয়া। সেখানে বক্তব্যের সিংহভাগ সময় তিনি লিখিত তথ্য পড়ে শোনান এবং সাংবাদিকদের মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন। এরপরই তার বার পরীক্ষা এবং আইনজীবী পরিচয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। ডনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘অ্যাটর্নি’ বা আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও তিনি দেশটির বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে এক সাংবাদিক জানতে চান তিনি কোন অঙ্গরাজ্যে বার পরীক্ষায় পাস করেছেন। জবাবে কেটি দুবারই বলেন, ‘আমি যখন চীনে গিয়েছিলাম।’ পরবর্তীতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি জানান যে তিনি প্রশ্নটি ভুল শুনেছিলেন, যদিও তৎকালীন সময়ে ট্রাম্প তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি পুনরাবৃত্তি করেছিলেন।
ফক্স নিউজের স্বল্পপরিচিত ভাষ্যকার কেটি জাকারিয়াকে গত ৯ অক্টোবর প্রেস সেক্রেটারি পদের প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তার কাছে তিনি অপরিচিত থাকলেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ন্যাটালি হার্পের সমর্থন পেয়েছিলেন। তবে চলতি বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজে শন হ্যানিটির অনুষ্ঠানে এবং শুক্রবার সকালে ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে তাকে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সঞ্চালক লরেন্স জোনস তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন যে বার পরীক্ষায় পাস না করার তথ্যটি প্রেসিডেন্টের কাছে আগেই প্রকাশ করা উচিত ছিল কিনা। জবাবে কেটি জাকারিয়া মন্তব্য করেন, ‘লরেন্স, আমাকে তো এসব প্রশ্ন করা হয়নি।’
কেটি জাকারিয়ার এই সংক্ষিপ্ত মেয়াদ ও হুট করে বিদায় নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের এক সপ্তাহের ধারাবাহিক অস্থিরতারই অংশ। গত মঙ্গলবার গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে টেলিভিশনে বরখাস্তের খবর আসে। পাশাপাশি ট্রাম্প তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী রিচার্ড গ্রেনেল ও আলিনা মিলডনের মধ্যকার বিরোধ মিটমাটের চেষ্টা করেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা পাওলো জাম্পোল্লি পররাষ্ট্র দপ্তর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের মেয়েসহ কয়েকজনের বিদেশে অর্থ উপার্জনের বিষয় নিয়েও বিতর্ক চলছে। এসব পরিস্থিতির মাঝেই মাত্র ৫ দিনে কেটি জাকারিয়ার বিদায় হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২