
ফ্রান্সের শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির দাবিতে দেশজুড়ে আবারও বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মুখে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের আলোচনার টেবিলে ডেকেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লে পারিজিয়াঁ’র প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আলোচনার জন্য তিনটি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী সংগঠনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই সংগঠনগুলো হলো—ইউনিয়ন সিন্দিক্যাল লিসেয়েন (ইউএসএল), রনুভো লিসেয়েন এবং লিসেয়েঁ!। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় (গ্রিনিচ মান সময় ১৩টা) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাপতিস্তও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে, গত বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকরনু চলতি অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ প্রথম দফার কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সরকারের সেই আশ্বাসে আশ্বস্ত না হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানী প্যারিসের বেশ কিছু স্কুল অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পঁতেওঁ-আসাস বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সকালের সব ক্লাস বাতিল করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় লুমিয়ের লিয়ঁ ২ বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে তাদের তিনটি campus সারাদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এছাড়া আঞ্জে শহরের বিভিন্ন উচ্চমাধ্যমিক স্কুলেও অবরোধের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে জ্বলন্ত ডাস্টবিনের আগুন নেভাতে দমকল বাহিনীকে তৎপর হতে দেখা যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের ২২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ এবং ১৫১টি আংশিকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তবে বুধবারের পূর্বাভাসের তুলনায় এ দিন আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কম ছিল।
শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো প্রথমে ইল-দ্য-ফ্রাঁস অঞ্চলের প্রিফেকচারের সামনে এবং পরবর্তীতে বিকেল ৩টায় প্যারিসের প্লাস দ্য লা বাস্তিয়েতে সমাবেশের ডাক দেয়। শিক্ষার্থীদের এই ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এসএনইএস-এফএসইউ, সিজিটি, এফও এবং সুদের মতো একাধিক শিক্ষক ইউনিয়ন।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত আড়াই লাখ আসনের ব্যবস্থা করা এবং ‘পারকুরসুপ’ নামক ভর্তি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটানো।
ইউএসএলের সভাপতি রিয়াদ রানি আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী লেকরনুর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাবসহ প্রস্তাবনা রয়েছে।"
চলমান এই উত্তেজনা নিরসনে জাতীয় পরিষদের স্পিকার ইয়ায়েল ব্রঁ-পিভে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশ—উভয় পক্ষকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক উদ্বেগের দ্রুত সমাধান দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি তাগিদ দেন তিনি। তবে সরকারের শিক্ষা পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সরকারি মুখপাত্র মোদ ব্রেজেওঁ জানিয়েছেন, আগামী বছরের জন্য জাতীয় শিক্ষা খাতে ৬৪ বিলিয়ন ইউরো (যা প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২