
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় কমিটি (ডিএনসি)। বুধবার দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি অর্থে প্রচারিত টেলিভিশন বিজ্ঞাপনগুলোতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক নীতির প্রচার চালানো হয়েছে।
ডিএনসির প্রধান কেন মার্টিন এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাবনা বাড়াতেই এই বিজ্ঞাপনগুলো তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নভেম্বরে রিপাবলিকানদের শেষ মুহূর্তে বাঁচানোর চেষ্টায় ট্রাম্প লাখ লাখ করদাতার অর্থ ব্যবহার করে খাঁটি প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছেন।
একই দিনে গণতন্ত্রবিষয়ক পর্যবেক্ষক সংগঠন 'কমন কজ' বিজ্ঞাপনগুলোর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে পৃথক মামলা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, এসব বিজ্ঞাপন জনসেবামূলক নয়, বরং পুরোপুরি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ, যা সরকারি অর্থ ব্যবহারে আইনগত নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন।
উভয় মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসকে কংগ্রেসের বরাদ্দ দেওয়া ২ কোটি ডলার অন্য খাতে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই অর্থ মূলত সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্মরণানুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ছিল। বাদীপক্ষের দাবি, এই অর্থ বিজ্ঞাপন প্রচারে ব্যবহার করে ট্রাম্প সংবিধানে নির্ধারিত ক্ষমতার বিভাজন এবং কংগ্রেসের অর্থ বরাদ্দসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছেন। মামলাগুলোতে বিজ্ঞাপনগুলোকে বেআইনি ঘোষণা করা এবং এর পেছনে ব্যয় হওয়া সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে।
অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে এসব বিজ্ঞাপন প্রচারে ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, বিজ্ঞাপনগুলোর একটি ২০২৪ সালের ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। প্রচারিত বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে ট্রাম্পের বিভিন্ন ছবির সঙ্গে 'লাভ মি' গান ব্যবহার, মাউন্ট রাশমোরের দৃশ্যে 'স্বর্ণযুগের' প্রচারণা এবং 'ডিপ স্টেট'-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সতর্কবার্তা রয়েছে।
রয়টার্স ও ইপসসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বিজ্ঞাপনগুলোতে সরকারি অর্থ ব্যবহারের বিপক্ষে। নিজের দলের কয়েকজন নেতাও এর সমালোচনা করেছেন। উত্তর ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বিজ্ঞাপনগুলোকে হাঙ্গেরীয় নেতা ভিক্টর অরবানের প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সমালোচনার মুখে ট্রাম্প ভবিষ্যতে আর সরকারি অর্থ ব্যবহার না করার কথা জানালেও, ইতোমধ্যে খরচ হওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২