
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে সহায়তার লক্ষ্যে সৌদি আরবে পাকিস্তানি ও তুর্কি সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং চুক্তিভুক্ত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত সৌদি ভূখণ্ডে মোতায়েন করা হবে। তবে ঠিক কতজন সেনা মোতায়েন করা হবে বা তাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের পরিধি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে সহায়তার জন্য জোটের ১০০টি যুদ্ধবিমান কাজ করছে। গত মাসে হুতিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করা অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ রিয়াদে বৈঠকের পর জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনী ইতোমধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছে। জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমানে পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনারা মূলত সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। পাকিস্তানি বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত থাকলেও, হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই এবং এলাকা পুনর্দখলের মূল দায়িত্ব পালন করছে সৌদি আরবের নিজস্ব সামরিক বাহিনী।
সৌদি আরবে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৬৭ সাল থেকেই পাকিস্তান সৌদি সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এবং ১৯৮২ সালের চুক্তির মাধ্যমে দেশটিতে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। ১৯৮৫ সালের সিআইএ মূল্যায়ন অনুযায়ী, তখন সৌদি সেনাবাহিনীতে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পাকিস্তানি সেনা কর্মরত ছিলেন। এছাড়া ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও দেশটিতে পাকিস্তানি সেনাদল পাঠানো হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো এক দেশের ওপর আগ্রাসন চালানো হলে তা উভয় দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে। চলতি বছরের এপ্রিলে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের কিং আবদুলআজিজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি সামরিক দলের পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও, বর্তমানে ঠিক কতজন পাকিস্তানি সেনা সেখানে অবস্থান করছেন তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২