
পাকিস্তানের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার হামলা থেকে পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা দিতে অভিনব এক কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। এখন থেকে পুলিশ চৌকিগুলোর ছাদ ও সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে কয়েক মিটার উঁচুতে টানানো হচ্ছে মাছ ধরার জাল। এই জাল একটি ছাউনির মতো কাজ করছে, যা ড্রোন বা কোয়াডকপ্টারকে চৌকির ভেতরে সরাসরি প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল হাঙ্গু জেলার সারকি পিয়ালা পুলিশ তল্লাশিচৌকিতে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। টিটিপি বা পাকিস্তান তালেবানের চালানো এই হামলার সময় পুলিশ কর্মকর্তা ফাইয়াজ খান ও তাঁর সহকর্মীরা কোনোমতে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন। প্রায় সাত ঘণ্টা স্থায়ী সেই সংঘর্ষে একজন সাঁজোয়া গাড়ির চালক নিহত ও একজন কনস্টেবল আহত হন। এর আগে ২৯ জুলাই হাঙ্গুর একটি পুলিশ ফাঁড়িতে কোয়াডকপ্টার হামলা ও পরবর্তী স্থল হামলায় ১১ পুলিশ সদস্য নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০ সেপ্টেম্বর হাঙ্গুতে গোলাগুলিতে ছয় সেনা ও আট হামলাকারী নিহত হন। তার দুদিন আগে কোহাট জেলায় ইত্তেহাদ–উল–মুজাহিদিন পাকিস্তানের হামলায় ১৬ পুলিশসহ ২৩ জন নিহত হন।
পুলিশ পরিদর্শক ফাইয়াজ খান জানান, মাছ ধরার জালের মতো দেখতে এই ছাউনিটি দুই মাস আগে বসানো হয়েছে এবং এরপর থেকে সারকি পিয়ালা ও কাছের বালিয়ামেনা চৌকিতে আর কোনো ড্রোন হামলা হয়নি। জিশান খান নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন, এই জাল সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, ড্রোন জালে আটকে গেলে সেটি নিষ্ক্রিয় হতে পারে অথবা বিস্ফোরিত হলেও টুকরাগুলো সরাসরি পুলিশ সদস্যদের ওপর না পড়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়বে।
হাঙ্গু জেলা পুলিশ কর্মকর্তা তারিক হাবিব জানান, একটি সাধারণ পুলিশ চৌকিতে জাল বসাতে প্রায় চার লাখ পাকিস্তানি রুপি বা ১ হাজার ৪৩৫ ডলার খরচ হয়। বর্তমানে হাঙ্গুর অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পুলিশ স্টেশনেও এই জাল বসানোর কাজ চলছে এবং প্রাদেশিক সরকারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোহাট, কারাক, বান্নু, লাক্কি মারওয়াত ও ডেরা ইসমাইল খানসহ অন্তত পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় এই জাল বসানো হয়েছে। এছাড়া প্রদেশের কিছু সামরিক চৌকিতেও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার কৌশলে পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই জাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টিটিপি পাকিস্তানে ধর্মভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালাচ্ছে বলে দাবি করে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে যে, কাবুলের তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে, যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২