
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ১৪। কাজের সন্ধানে আট বছর আগে বাংলাদেশ থেকে জাপানে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রকৌশলী আব্দুল। এই পূর্ব এশীয় দেশটির জীবনযাত্রার সঙ্গে তিনি এখন পুরোপুরি অভ্যস্ত। কিন্তু জাপানি সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তাকে। সরকার দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসকারী বিদেশিদের জন্য স্থায়ী আবাসনের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বার্ষিক পারিবারিক আয় জাপানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে, আবেদনকারীদের জাপানি ভাষায় দক্ষতা প্রদর্শন এবং ৩০ বছরের অর্থ প্রদানের সমতুল্য একটি পেনশন তহবিল থাকার বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে। এই শর্তগুলো পর্যায়ক্রমে ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে এপ্রিল থেকে করা আবেদনের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে।
আব্দুল তার স্ত্রীর সঙ্গে স্থায়ী আবাসন ও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানিয়েছেন, যদি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে জাপানের বাইরে কাজের সুযোগ খোঁজার কথাও ভাবছেন তিনি। একই ধরনের অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ১৪ বছর ধরে জাপানে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক সারাহ নেলকিন। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তিনি জাপানের নাগরিকত্ব নেওয়ার কথাও ভাবছেন, যদিও সেক্ষেত্রে তাকে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হতে পারে।
জাপান সরকারের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, বিদেশিদের স্বনির্ভরভাবে বসবাস করতে হবে এবং রাষ্ট্রের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে পড়ার ঝুঁকি তাদের থাকা যাবে না। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, জনসংখ্যা ও শ্রমশক্তি কমে যাওয়ায় জাপানের বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে। শর্ত কঠোর হলে বিদেশি কর্মীদের কাছে দেশটির আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। একই সময়ে জন্মহার কমে যাওয়ায় দেশটিতে জাপানি নাগরিকের সংখ্যা দ্রুত কমছে। দীর্ঘদিনের বিদেশি বাসিন্দাদের অনেকেই অভিযোগ করছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে বিদেশিদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ও বৈষম্যের প্রবণতা বেড়েছে। শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এখন জাপানের সামনে একটি বড় নীতিগত প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২