
দীর্ঘ ২৮ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো কোনো নির্বাচনে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ছাড়াই ভোট হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তবে এই নির্বাচনে প্রতীকটি ব্যবহারের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার রাতে এক আদেশে কমিশন জানিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের মূল নেতৃত্ব, দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ এবং কোন পক্ষকে প্রকৃত দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে—এই বিষয়গুলোর চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত প্রতীকটি ব্যবহারের সুযোগ নেই।
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এর ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী এবং ঋতব্রতপন্থি—উভয় পক্ষকেই নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত তালিকা থেকে আলাদা আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে। শুধু প্রতীক নয়, কমিশন দুই পক্ষকে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। উভয় শিবিরকে আলাদা নাম বেছে নিতে বলা হলেও, তারা চাইলে নামের সঙ্গে মূল দলের সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। ২৯৪ আসনের মধ্যে জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানানোর পর থেকে দুই শিবিরের মধ্যে দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব চলছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিধানসভায় বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃত।
১৯৯৮ সালে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে জোড়াফুল প্রতীকটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, এই প্রতীকটির নকশা তিনি নিজেই করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানের সঙ্গে মিশে যায়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বর্তমান সিদ্ধান্তটি দলীয় নিয়ন্ত্রণ বা প্রতীকের ওপর চূড়ান্ত কোনো রায় নয়। সংশ্লিষ্ট সব বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২