
ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখার পতনের পর দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই চরম আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরের কাধা এলাকা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মারিব অভিমুখে দুই পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ চলছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা জোরদার এবং হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
রাজধানী সানা থেকে আল–জাজিরার প্রতিনিধি ইউসুফ মাওরি জানান, মোখা শহরের পতনের পর তাইজের মাকবানাহ জেলার কাধা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষই সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে এবং সরকারি বাহিনী বিমান হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, মারিবের পশ্চিমে আল-মাশজাহ, আল-জোর এবং মাস ক্যাম্পের কাছে হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। মারিবে সরকারের প্রধান তেল-গ্যাস কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। ইউসুফ মাউরির মতে, মারিবের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে, ইয়েমেনের রাজস্বের প্রবাহও তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মারিব হাতছাড়া হলে উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অবস্থান চরম সংকটে পড়বে।
ইয়েমেনের সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্স জানিয়েছে, গত ৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের ৫০০-র বেশি সেনা নিহত এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন। হুতিদের পক্ষে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। মোখা ও পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনীর পরাজয়কে ‘দুঃখজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য ও মারিবের গভর্নর সুলতান আল-আরাদা। তিনি জানান, পশ্চিম উপকূল থেকে পিছু হটে সরকারি বাহিনীর একটি অংশ মারিবে গিয়ে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ‘বাশা রিপোর্ট রিস্ক অ্যাডভাইজরি’র প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা জানান, সরকারপন্থী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও বিভক্তির সুযোগ নিয়েই হুতিরা দ্রুত অগ্রসর হতে পারছে।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের ভেতরেও হামলা বাড়িয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাঁরা সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় শারুরাহ সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। এছাড়া ইয়েমেন সীমান্তের কাছে জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল এলাকায় হামলায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে। রয়টার্সের সূত্রমতে, লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের তেল মজুত রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই পাইপলাইন চালু করা না গেলে সৌদির তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল (বৈশ্বিক সরবরাহের ৪ শতাংশ) কমে যেতে পারে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেবে।
হুতিদের অগ্রযাত্রা রুখতে সৌদি জোটও বিমান হামলা জোরদার করেছে। হুতিদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ১২৯টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, মোখা-ধুবাব সড়কে হুতিদের লক্ষ্য করে এবং তাইজ অঞ্চলে তিনটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে দুই হাজারের বেশি মানুষ লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে।
সংঘাতের আঁচ লেগেছে হরমুজ প্রণালিতেও। ইরান দাবি করেছে, হরমুজের কাছে কাসেম দ্বীপের কাছে তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান, তবে বাহরাইন এই বৈঠক বয়কট করেছে। আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে নিজের গলফ রিসোর্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বৈঠকের বিষয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই, এটি তাদের নিজস্ব বিষয়। ২০১৪ সালে হুতিদের সানা দখলের মাধ্যমে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যা ২০১৫ সালে সৌদি জোটের হস্তক্ষেপে আরও বিস্তার লাভ করে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সহিংসতা কমলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটিতে আবারও পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২