
নয়াদিল্লিতে চলমান ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নানা মতপার্থক্য কাটিয়ে অবশেষে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা ও নিবিড় কূটনৈতিক দর-কষাকষির পর শনিবার সকালে এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ঘোষণায় সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের উসকানিবিহীন আগ্রাসনের’ তীব্র নিন্দা জানানো হবে।
ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এবারের সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি যৌথ ঘোষণার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যকার বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে যৌথ বিবৃতি দেওয়া নিয়ে বড় ধরনের uncertainty বা অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর আগে গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এই একই মতবিরোধের জেরে কোনো যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার টানা চার দিনেরও বেশি সময় ধরে ব্রিকসের ‘শেরপা’দের ধারাবাহিক বৈঠক এবং ভারতের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত এই অচলাবস্থার অবসান ঘটে। চূড়ান্ত ঘোষণায় সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব রক্ষা, regional stability বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিরাপদ বাণিজ্যপথ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
এবারের শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ব্রিকস জোটের অন্যান্য সদস্য দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে ব্রিকস জোটে ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ রয়েছে, যারা সম্মিলিতভাবে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক অংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
মূল সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাপে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়। এ সময় নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংলাপ ও কূটনীতির পথেই এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি নৌ চলাচল সচল রাখা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা এবং নাবিকদের সুরক্ষার ওপর জোর দেন।
এদিকে ব্রিকস সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর ভূমিকা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং উদীয়মান দেশগুলোর জন্য বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিটি পুনরায় উত্থাপন করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২