
ব্রিকসের বর্তমান সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই জোটের নেতারা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে এক সম্মেলনে মিলিত হতে যাচ্ছেন। চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জোটের সদস্যদের মধ্যে একটি অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ২০২৪ সালে নতুন সদস্য হিসেবে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের যোগদানের পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তাদের ভিন্ন অবস্থানের কারণে ব্রিকসের ঐক্যের পরীক্ষা আরও জোরালো হয়েছে।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত এই জোট পরবর্তীতে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর, ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। জোটটির মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার বাইরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। তবে প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, ব্রিকস কি সত্যিই পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার একটি প্রকৃত বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে?
বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, ব্রিকসের লক্ষ্য হয়তো সরাসরি পশ্চিমকে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং পশ্চিমা দেশগুলোর একক আধিপত্যকে আরও কঠিন করে তোলা। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দোহা রাউন্ডের ব্যর্থতার পর উন্নয়নশীল দেশগুলো আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অক্টাভিও অলিভেইরা ও এনজো গডিনহোর মতে, জোটটি পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজেদের স্বার্থে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতেই বেশি আগ্রহী।
কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শন বার্গেস মনে করেন, ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর নৈতিক চাপ কমানোর লক্ষ্যই প্রধান ঐক্য তৈরি করেছে। তার মতে, পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে ফেলার চেয়ে বরং নিজেদের জন্য বেশি স্বাধীনতা ও বিকল্প পথ তৈরি করাই সদস্যদের মূল উদ্দেশ্য। চীনের শর্তহীন উন্নয়ন সহায়তা এবং ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরাসরি মুদ্রা বিনিময়ের প্রস্তাবগুলো এরই প্রতিফলন, যা গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক গাই বার্টনের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জটিল। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিকস যখন গঠিত হয়েছিল তখনকার ‘পশ্চিম’ আর এখনকার পশ্চিম এক নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কেও ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে এখনকার পরিস্থিতিতে ব্রিকস ঠিক কাকে চ্যালেঞ্জ করছে—যুক্তরাষ্ট্রকে নাকি ইউরোপকে—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২