
গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (06-09-2026) তারিখে ১২: ৪৫ (12:45) মিনিটে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনাটি বাতিল হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। সম্প্রতি এক রাজনৈতিক সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ বা উচ্ছেদ করা ছাড়া এই সংকটের কোনো বাস্তব সমাধান নেই। কাটজের এমন বক্তব্য গাজাবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত ওই সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, গাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার এই পরিকল্পনাটি একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছিল, তবে তা কখনোই বাতিল করা হয়নি। পরিকল্পনাটি এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন। অন্য কোনো দেশ গাজাবাসীদের গ্রহণে রাজি হলে সমুদ্র, আকাশ বা যেকোনো পথে তাদের বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে ইসরাইল প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এই প্রক্রিয়ার প্রধান বাধা হলো অন্য দেশগুলোর গাজাবাসীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ।
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার এই ধারণাটি নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর গাজাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আসে। বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে এলাকাটিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’ হিসেবে গড়ে তোলার সেই প্রস্তাব বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচিত হয়েছিল। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও তখন গাজার জনগণের যেকোনো ধরনের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ তদারকির জন্য একটি বিশেষ দপ্তরও গঠন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল তৃতীয় কোনো দেশে গাজাবাসীদের স্থানান্তর নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের গাজায় রেখে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের মতো আরব দেশগুলো একে স্বাগত জানালেও বর্তমানে ইসরাইল ও হামাসের অনড় অবস্থানের কারণে তা আটকে আছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া ইসরাইল সেনা সরাতে নারাজ, আর হামাসও সেনা প্রত্যাহারের আগে অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয়।
এর মধ্যেই ইসরাইলের ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গাজায় পুনরায় ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবি জোরালো হচ্ছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসনে’ উৎসাহিত করার পক্ষে কথা বলছেন। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। শান্তি আলোচনা অচল থাকার এই সময়ে কাটজের মন্তব্যকে কেবল নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২