
নেপালের ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী-তীরবর্তী বসতিগুলোতে হিমবাহধসে সৃষ্ট ভয়াবহ ঢলের তাণ্ডব ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওতে স্পষ্ট হয়েছে। গত বুধবার তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আঘাত হানা এই আকস্মিক বন্যায় নদী-তীরবর্তী জনপদগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পানি ও কাদামাটির প্রবল স্রোত ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক এবং যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পুরো এলাকা এখন গাঢ় কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে আছে। তীব্র গতির এই স্রোত নদী ধরে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে একের পর এক জনপদকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
নেপালের সরকারি তথ্যানুযায়ী, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এখনো হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া কয়েক ডজন সেতু ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তে নতুন একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকে জীবন বাঁচাতে পাহাড়ের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমবাহ থেকে সৃষ্ট একটি তুষারধস থেকেই এই বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তাদের তথ্যমতে, ত্রিশূলী নদীর একটি অংশে মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ ৯ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। হিমালয় অঞ্চলের খাড়া ঢাল ও উপত্যকাগুলো বন্যা ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, আর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে যাওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৃথিবীর ‘তৃতীয় মেরু’ হিসেবে পরিচিত হিমালয়ের বরফ ব্যবস্থার এই অস্থিতিশীলতা ভাটির দিকে বসবাসকারী প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য বড় ধরনের সংকটের ঝুঁকি তৈরি করছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টেও একই অঞ্চলে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদ উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যা হয়েছিল, যাতে ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং নেপাল ও চীনের মধ্যে যোগাযোগকারী একটি সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২