
নেপালে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের দুদিন পার হলেও দুর্গম ও কাদামাটিতে ঢাকা এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলগুলো যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
নেপাল পুলিশের দেওয়া জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১৭৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। এছাড়া নবলপরাসী বরদাঘাট সুস্তার পূর্বে ১১০ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, ধাদিংয়ে ৩৩ জন, তানাহুনে ২৮ জন, নবলপরাসী বরদাঘাট সুস্তার পশ্চিমে ২৭ জন এবং রসুয়া জেলা থেকে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যার পানির তোড়ে কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসার সংযোগকারী রুটের গ্রাম ও উপত্যকাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাস্তাঘাট এবং সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। এই রুটটি ট্রেকার এবং তীর্থযাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় এখনো হাজার খানেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্যমতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ১২৭ জন নেপালি নাগরিকসহ মোট ৬৬৭ জন পর্যটক ও দর্শনার্থী এখনো নিখোঁজ। উদ্ধার হওয়া ৩১ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ভারতীয়, দক্ষিণ কোরীয়, মার্কিন, রুশ, ইতালীয়, বুলগেরীয় এবং সুইস নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া বাকি ১৮ জনের জাতীয়তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
দুর্যোগের মধ্যে নতুন করে দ্বিতীয় দফা বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উজানে জমে থাকা পানিতে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় তা ভেঙে পড়ার চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো হচ্ছে এবং জীবিতদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাসুয়া শহর থেকে উদ্ধার হওয়া দিবগা তামাং বলেন, “আমার পরিবার, আপনজন বলতে আর কেউ নেই। আমার জন্য অপেক্ষা করার আর কেউ নেই। সব কিছু শেষ। সবাই চলে গেছে।”
কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
নেপাল পুলিশের বরাতে নেপাল নিউজ উদ্ধার হওয়া ৪৬৯টি মরদেহের জেলাভিত্তিক একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২