
ভারতের সংসদে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের পর এবার আন্দোলনকে রাজপথে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। সংসদের ভিতরের প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা সাড়া জাগাতে পেরেছে, এবার সেই হিসাব কষতে চাইছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এই লক্ষ্যেই আগামী ১৯ আগস্ট কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে।
সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। তবে সংসদের বাইরে সেই আন্দোলনের প্রতিফলন কতটা দেখা গেছে, তা নিয়ে দলের ভেতরেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে, কেবল সংসদে সরব থাকাই যথেষ্ট নয়; সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলন প্রয়োজন।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছাত্র ও তরুণ সমাজকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২২ আগস্ট রাহুল গান্ধী মহারাষ্ট্রের পুনেতে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এর আগে উত্তরাখণ্ড, বিহার এবং প্রয়াগরাজেও একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। দলীয় সূত্র জানায়, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে আগামী দিনেও এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
কংগ্রেসের হিসাব অনুযায়ী, শিক্ষা, চাকরি, পরীক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারি নিয়োগের মতো বিষয় নিয়ে ছাত্র ও তরুণদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তাকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে রাজপথে তার বড় প্রভাব পড়বে।
পাশাপাশি উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ে আরেকটি রাজনৈতিক ইস্যুকে সামনে আনতে চাইছে কংগ্রেস। অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর অর্থ চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। উত্তরপ্রদেশে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন থাকায় অযোধ্যাকে ঘিরে যেকোনো রাজনৈতিক ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি।
রামমন্দিরের প্রণামীর অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগকে হাতছাড়া করতে নারাজ সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির রাজনৈতিক সমঝোতা বজায় থাকার সম্ভাবনাই এখন প্রবল। ফলে অযোধ্যার এই অভিযোগকে সামনে রেখে দুই দলই নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও জোরদার করতে চাইছে। কংগ্রেসের এই পরিকল্পনা শুধু উত্তরপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; হরিয়ানা ও উত্তরাখণ্ডসহ হিন্দি বলয়ের বিভিন্ন রাজ্যেও এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় অভিযোগ ও জনস্বার্থের বিষয়গুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনকে যুক্ত করা। তবে সামনে উৎসবের মরশুম থাকায় কখন ও কীভাবে কর্মসূচিগুলো করা হবে, তা নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে আলোচনা চলছে। ১৯ আগস্টের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেসের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সংসদের ভিতরের প্রতিবাদকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা। শুধু সরকারের সমালোচনা নয়, সেই সমালোচনাকে জনআন্দোলনে পরিণত করতে পারলেই মিলবে রাজনৈতিক সুফল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২