
সুইজারল্যান্ডে বর্তমানে যে ভয়াবহ খরা পরিস্থিতি চলছে, তা দেশটির কৃষি খাতে ২০০৩ সালের সংকটের সময়কার ৫০ কোটি সুইস ফ্রাঁর রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কৃষক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মার্কুস রিটার। তার দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন নজিরবিহীন খরা তিনি আগে কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন।
সুইস সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে রিটার জানান, গ্রীষ্মের শুরু থেকেই মাটিতে আর্দ্রতার তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পুরো দেশজুড়ে এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই শুষ্ক আবহাওয়া কৃষকদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, যদিও খুচরা বিক্রেতারা কিছুটা বাড়তি ব্যয় বহনের আগ্রহ দেখিয়েছেন, তবুও আর্থিক ক্ষতির সিংহভাগই বহন করতে হবে কৃষি খাতকে।
খরার সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আলু ও চিনি উৎপাদনকারী বিটের ফলনের ওপর। ভুট্টা উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে গম ও যব চাষিরা তুলনামূলকভাবে কিছুটা রক্ষা পেয়েছেন, কারণ খরা তীব্র আকার ধারণ করার আগেই এসব ফসলের বড় একটি অংশ পরিপক্ব হয়ে গিয়েছিল এবং তা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
গবাদিপশু খামারিরাও খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছেন। গ্রীষ্মকাল পার করার জন্য অনেক কৃষক ইতিমধ্যেই শীতের জন্য সংরক্ষিত পশুখাদ্য ব্যবহার শুরু করেছেন। পরিস্থিতির অবনতির কারণে খড়ের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা দুগ্ধ খামার ও গবাদিপশু পালনকারীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বেশ সংকটজনক হলেও সরকার থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন রিটার। তিনি কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে কৃষক ইউনিয়ন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
ইতিমধ্যেই এই সংকট মোকাবিলায় সুইস কর্তৃপক্ষ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আলপাইন অঞ্চলের চারণভূমিগুলোতে বিমানযোগে পানি সরবরাহ এবং পশুখাদ্য আমদানির খরচ কমাতে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার অন্যতম। রিটার জানিয়েছেন যে, খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে খরচ ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করা হবে, তবে শেষ পর্যন্ত কৃষকদেরই ক্ষতির বড় অংশ বহন করতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫: ১৫আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫: ১৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২