
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মোতায়েন করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে লিংকনের নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি, পানিদূষণ এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের পর এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। জাহাজটি টানা ২৪০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে রয়েছে এবং প্রায় ২০০ দিন কোনো বন্দরে নোঙর করতে পারেনি। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নাবিকদের অবস্থার বিষয়ে আসা প্রতিবেদনগুলোকে 'সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত' বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্যমতে, কোনো নৌ সদস্য মারা যাননি এবং ৩ আগস্ট জাহাজ থেকে পড়ে যাওয়া একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যানের মতে, এ ধরনের দীর্ঘ অভিযান যুদ্ধজাহাজের সক্ষমতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জর্জ ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।
এই রণতরি বদলের পাশাপাশি ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় অচলাবস্থা কাটানো না গেলে ইরানের বন্দরগুলোতে 'অনির্দিষ্টকাল' নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, জাহাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবরোধ দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আগামী সপ্তাহ থেকে ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন, যাকে তিনি 'নজিরবিহীন' পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও আলোচনা ভেঙে গেছে। এই সময়সীমা আগামী রোববার শেষ হচ্ছে এবং সমঝোতা নবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, হরমুজ তাদের 'পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে' রয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, জলপথটি তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং তা বন্ধ রয়েছে। ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এটি খোলা হবে না। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া অন্যতম। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচল করলেও বর্তমানে তা দৈনিক গড়ে ১২টিতে নেমে এসেছে। ইরান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচলের দাবিকে 'মিথ্যা ও ভিত্তিহীন' বলে মন্তব্য করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২