
গত সপ্তাহে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে মিসরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সৌদি আরব জোরালো আপত্তি জানিয়েছে। তুরস্ক চুক্তিতে মিসরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইলেও সৌদি আরব তাতে রাজি হয়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সৌদি সূত্র মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, রিয়াদ চায়নি মিসর ‘অন্তত এখনই’ এই জোটে যুক্ত হোক। সৌদি রাজপরিবারের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাসহ ওই তিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সরকারের প্রতি রিয়াদের গভীর অসন্তোষ থেকেই এই অবস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯১ সালে কুয়েত থেকে ইরাকি বাহিনীকে হটাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটেও মিসর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, কিন্তু সৌদি কর্মকর্তাদের মতে, মিসরের কৌশলগত ও সামরিক গুরুত্ব আগের মতো নেই।
সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, ২০১৩ সালে সিসি ক্ষমতায় আসার পর সৌদি আরব তার সরকারের প্রধান আর্থিক সমর্থক ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুতে মিসরের কাছ থেকে পাল্টা সমর্থন না পাওয়ায় রিয়াদ হতাশ। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি কায়রোর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা সৌদি আরবকে চিন্তিত করে তুলেছে। ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে আবুধাবির সমর্থন এবং সুদান ও সোমালিল্যান্ডের মতো ইস্যুতে আমিরাতের নীতি মিসরের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া সত্ত্বেও কায়রোর ঘনিষ্ঠতা সৌদি নীতিনির্ধারকদের মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
সৌদি রাজপরিবারের সাবেক ওই উপদেষ্টা বলেন, মিসর ঐতিহাসিকভাবেই সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু বিনিময়ে তারা খুব কমই অবদান রাখে। সিসির আনুগত্য নিয়ে রিয়াদের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আস্থার অভাব রয়েছে। সামরিক সক্ষমতার দিক থেকেও মিসরের চেয়ে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে বেশি কার্যকর মনে করছে রিয়াদ। তুরস্কের আধুনিক প্রতিরক্ষা শিল্প এবং পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠিত সামরিক শক্তিকে মিসরের তুলনায় এগিয়ে রাখা হয়েছে, কারণ মিসরের সামরিক উৎপাদনের বড় অংশ বেসামরিক পণ্য উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে আছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে কারিগরি সমস্যার সমাধান হলে মিসর এই জোটে যোগ দিতে পারে। তবে সৌদি সূত্রগুলো বলছে, আপাতত মিসরকে বাইরে রাখাই রিয়াদের কৌশল। যদিও মিসর নিজেই এই চুক্তিতে যোগ দিতে অনিচ্ছুক ছিল কি না, তা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামোয় মিসরের ক্রমশ কমে আসা ভূমিকা ও আর্থিক সহায়তার ওপর তাদের নির্ভরতা এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২