
ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারকে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাঁচিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) জোট সরকারের অন্যতম শরিক দল কংগ্রেস। ফলে শরিক দলের শীর্ষ নেতা হয়েও পুলিশের এই অ্যাকশনের বিরুদ্ধে রাহুলের সরাসরি অবস্থান নেওয়াকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা তাঁরা সমর্থন করেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে তা তাঁর কাছে বড় বিষয় নয়; শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর এমন পদক্ষেপের সুপারিশ তাঁরা কখনই করেন না। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তাতেও তিনি একই অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি শোনার পথ খোলা রেখে ঝাড়খণ্ড সরকারের উচিত দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করা।
ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন। সোমবার রাঁচিতে এই দাবিতেই মিছিল বের করা হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয় এবং পরে লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল বিজেপিও হেমন্ত সোরেন সরকারের ওপর চড়াও হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর সোচ্চার হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে দিল্লিতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ও তিনি একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমীকরণটি ভিন্ন হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন হেমন্ত সোরেন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কি না এবং পুলিশের ভূমিকার কোনো তদন্ত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২