
ভারতের ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে আন্দোলনকারীরা বিধানসভা অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওনা হলে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সরকারের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল থেকেই রাঁচির বিধানসভা এলাকা কড়া পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের মিছিলটি কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ তাদের পথ রোধ করতে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দেয়। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড টপকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে বর্তমানে অন্তত ছয়জন শিক্ষার্থী অনশন করছেন।
এই অনশনকারীদের একজন হলেন ৩৩ বছর বয়সী ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অনশনরত অসুস্থ এই নেতা অ্যাম্বুলেন্সে করে ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরে স্ট্রেচারে করে আন্দোলনের অগ্রভাগে যোগ দেন। পুলিশের কাঁটাতারের ব্যারিকেড দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "এটা কি পাকিস্তান, বাংলাদেশ নাকি চীনের সীমান্ত? এরা তো শিক্ষার্থী।" অনশনরত অবস্থায় এসেও তিনি দৃঢ়তা প্রকাশ করে বলেন যে তাদের আটকানো যাবে না এবং সরকারকে দাবি মানতেই হবে।
তবে আন্দোলন যাতে কোনোভাবেই সহিংস রূপ না নেয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছেন দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিন উপলক্ষে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা দিল্লির যন্তর মন্তরের মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয় এবং কোনো রক্তপাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে, সেটাই তার প্রত্যাশা। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হলো, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঝাড়খণ্ডের সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার চলমান ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল করে পুরো ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন। গত রবিবার তিনি জানান যে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনা থেকে এখনো কাঙ্ক্ষিত সমাধান না আসায় আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। বিধানসভা ঘেরাওয়ে পুলিশের বাধা ও জলকামান ব্যবহারের পর ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে চলমান ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২