
ইসরায়েলের কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গায়ের রং তামাটে বা ব্রোঞ্জ কালার করার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১৯৯২ সালে অতিবেগুনি রশ্মির মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে বিজ্ঞানীরা যে ‘ইউভি ইনডেক্স’ বা সূচক তৈরি করেছিলেন, বর্তমানের তরুণরা সেটিকে পাত্তা না দিয়ে বরং দ্রুত ট্যান পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি তাপমাত্রা ৮২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছানোর পর এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর সরাসরি রোদে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পরেও ১৬ বছর বয়সি আবিগেইল ওয়লফের মতো অনেক তরুণী সৈকতে ভিড় করছেন। আবিগেইল জানান, ইনডেক্সে ১০ বা ১১ থাকলেও তিনি ভালো ট্যান পাওয়ার আশায় প্রায় ৪০ মিনিট রোদে অবস্থান করেন।
ইসরায়েলের প্রধান স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লেলিত হেলথ সার্ভিসেস’-এর সিনিয়র পেডিয়াট্রিক ডার্মাটোলজিস্ট ডা. ইফ্রাত বার-ইলান গত দুই বছর ধরে তরুণদের মধ্যে এই বিপজ্জনক প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভবিষ্যতের ক্যানসারের কথা চিন্তা না করে তারা কেবল তাৎক্ষণিক সুন্দর লুক বা গ্লো পেতে মরিয়া। অতিবেগুনি রশ্মির মধ্যে থাকা ইউভিএ রশ্মি ত্বককে কালচে করে এবং স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ইউভিবি রশ্মি ত্বকের উপরের স্তর পুড়িয়ে ডিএনএ-এর ক্ষতিসাধন করে। এর ফলে অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা এবং নিশ্চিত ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়।
অভিভাবকরা সন্তানদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও কিশোর-কিশোরীরা ৬০ বা ৭০ বছর বয়সে কী হবে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র পরোয়া করতে চায় না। চিকিৎসকদের মতে, মেলানোমা নামক মারাত্মক ক্যানসার পিগমেন্ট কোষে শুরু হয়ে ফুসফুস, লিভার বা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মেলানোমা আক্রান্ত দেশের তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান ২৩তম। তবে ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ৯১ শতাংশ ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ায় মৃত্যুর হার বেশ কম এবং মেলানোমার হারও কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
হাইফা সৈকতে ১০ ইউভি ইনডেক্সের মধ্যেও রোদে শুয়ে থাকা মিশল পেরেজ স্বীকার করেছেন যে তিনি জেনেশুনেই জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন, তবুও সৈকতে সময় কাটানো তার জীবনের অন্যতম আনন্দ। বিশেষজ্ঞরা সানস্ক্রিন ব্যবহার, টুপি ও চশমা পরা এবং ১১ ইনডেক্সের সময় রোদে না যাওয়ার পরামর্শ দিলেও অনেকে তা মানতে নারাজ। শোন ব্রেনার নামের এক তরুণ দাবি করেন যে সানস্ক্রিনের রাসায়নিক উপাদান রোদের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। যদিও ডা. বার-ইলান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অনুমোদিত সানস্ক্রিন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং অপরিকল্পিত ইউভি রশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্ষতি ও ক্যানসারের ঝুঁকি পুরোপুরি প্রমাণিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২